ভূমিমন্ত্রী
মেধাবীদের মূল্যায়ন না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অসম্ভব

এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু— সংগৃহীত
মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান না দিলে কোনো জাতি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি বলেছেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান শুধু তাদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে মূল্যায়ন করে না, বরং জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আজ শনিবার বিকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ড. কায়সার রহমান চৌধুরী অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সমাজ উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বললেন, ‘আজকের সংবর্ধনা কেবল শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার আয়োজন নয়; এটি তাদের আত্মবিশ্বাস, সম্মানবোধ ও ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ছোট একটি সম্মাননাও একজন শিক্ষার্থীর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং তাকে আরও বড় অর্জনের পথে অনুপ্রাণিত করতে পারে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘জীবনে সফল হতে হলে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে আত্মবিশ্বাস, সাহস, অধ্যবসায় এবং মানসম্মত শিক্ষা অপরিহার্য।’
তিনি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ড. এ পি জে আব্দুল কালামের জীবনসংগ্রামের উদাহরণ তুলে ধরে বলেছেন, ‘সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে বিশ্বমানের সাফল্য অর্জন সম্ভব।’
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। ভবিষ্যতে তারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে— জানান মিনু।
রাজশাহীর অতীত ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, ‘একসময় পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও মানবিক নগরী হিসেবে রাজশাহী আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসা অর্জন করেছিল। সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক বন্ধন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও শহরটি দেশের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। প্রধান আলোচক ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইট।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার প্রধান সম্পাদক এবং বি.পরিক্রমা নিউজবিডিডটকমের প্রকাশক-সম্পাদক হারুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম ছায়েদুর রহমান, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী, নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শিখা সরকার এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. হাসেন আলী।
আলোচনা সভা শেষে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও সনদ বিতরণ করা হয়।





