ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ
দুই দফা মারধরে যুবকের মৃত্যু, পেটানো হয় হাসপাতালেও

নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম।
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক যুবককে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথমে এক দফা মারধরের পর তাকে ভর্তি করা হয়েছিল উপজেলা হাসপাতালে। সেখানে দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলা হয়।
এরপর রাতে পুলিশ পাহারায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহীন।
নিহত যুবকের নাম ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮)। তিনি দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমান সানার ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, শামীমের কিছু মন্তব্যের কয়েকটি অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অডিওতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেন কেউ কেউ।
বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তার বাড়িতে যান। তখন শামীম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানান।
পরে তার ভাইয়েরা তাকে কুলিয়া এলাকার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে ভর্তি করেন।
এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত একদল ব্যক্তি সবুর ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন।
দেবহাটা থানার ওসি শাহীন বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে শামীমকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্বিতীয় দফায় শামীমের ওপর হামলা হয় বলে স্থানীয়দের কাছে তথ্য পাওয়া গেছে।
শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১১টার দিকে পুলিশ পাহারায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শামীমের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা শাহীন।



