পূর্বধলা
অবৈধ বালু পরিবহন সন্দেহে ৬ ট্রাক আটক, ১২ ঘণ্টা পর মুক্তি

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার পূর্বধলায় অবৈধ বালু পরিবহনের সন্দেহে আটক করা ছয়টি ট্রাক প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে প্রশাসন। যাচাই-বাছাই শেষে বালু পরিবহনের কাগজপত্র বৈধ পাওয়ায় ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
গত ১৬ জুন দিবাগত রাত ২টার দিকে পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ বালুবাহী ছয়টি ট্রাক আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালকদের বক্তব্য ও বালু পরিবহনের কাগজপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়লে পরদিন ১৭ জুন দুপুর ২টার দিকে তাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
আটকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চালকরা দাবি করেন, তারা কলমাকান্দা থেকে বালু লোড করেছেন। তবে তাদের কাছে থাকা চালানে বালুর উৎস হিসেবে উল্লেখ ছিল মোহনগঞ্জ উপজেলার কচুয়ারচর এলাকা। এতে বালুর প্রকৃত উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
বিষয়টি জানতে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে কলমাকান্দা উপজেলায় কোনো ইজারাকৃত বালুমহাল নেই।
অন্যদিকে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন জানান, কচুয়ারচর এলাকায় কিছু ব্যক্তি বালু সংগ্রহ করেন বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের জানান, এলাকায় বৈধভাবে বালু বিক্রির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তার জানা নেই। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করেন।
বিভিন্ন কর্মকর্তার ভিন্নমুখী বক্তব্য এবং কাগজপত্র নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যেই ১৭ জুন দুপুরে ঘটনার নিষ্পত্তি হয়।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কাগজপত্রে অসঙ্গতির সন্দেহে ট্রাকগুলো আটক করা হয়েছিল। পরে ইউএনও কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বালু পরিবহনের কাগজপত্র বৈধ পাওয়া গেলে চালকদের সতর্ক করে ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বালু পরিবহনের কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেছে। আইনি কোনো বাধা না থাকায় ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।




