সুন্দরবনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে খুলনায় প্রতিবাদ

ছবি: আগামীর সময়
সুন্দরবনের আকবর পয়েন্টে প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে এবং স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবন সুরক্ষার দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে ‘আমরাই আগামী’, ‘ক্লাইমেট কানেক্টস’, ‘রিগ্লোবাল’, ‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, খুলনা’, ‘ক্লিন’ এবং ‘বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এক্সটার্নাল ডেট’ (বিডাব্লিউজিইডি)-সহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবনসংলগ্ন আকবর পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পরিবেশ, অনন্য জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক প্রতিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি এবং মাছের প্রাপ্যতা কমে গেলে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় তাদের প্রধান জীবিকা ও আয়ের উৎস হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তারা বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে এ ধরনের প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
জ্বালানি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এলএনজি আমদানিনির্ভর অবকাঠামো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। টার্মিনাল নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের ওঠানামা দেশের জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি করবে।
তাদের মতে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত চাহিদা বিবেচনা না করে নতুন এলএনজি টার্মিনাল কিংবা এলএনজিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে পরিণত হতে পারে।
বক্তারা নতুন জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক অবকাঠামোতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে অর্থ ব্যয়ের আহ্বান জানান।
তারা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, উপযোগী স্থানে সোলার পার্ক স্থাপন এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। এলএনজি আমদানির বিপুল ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার বিপরীতে সৌরবিদ্যুৎ জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোর একটি টেকসই বিকল্প হতে পারে।
কর্মসূচি থেকে সরকারের প্রতি নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ থেকে সরে আসার দাবি জানানো হয়। বক্তারা দেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা, বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা, পরিবেশগত ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় মানুষের অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনগণের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক ও গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী, আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলুসহ অন্যরা।




