পাবনায় হাট ইজারার বিরোধে গুলিতে নিহত ২ ব্যবসায়ী
- রাজশাহীতে কৃষক, মুন্সীগঞ্জে বাবা-মেয়েকে হত্যা

প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হত্যাকাণ্ড ঘটছেই। নতুন করে আরও পাঁচটি লাশ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের মধ্যে রাজশাহীর পবায় নিজ বাড়ির ছাদে ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার কৃষক, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে জমির বিরোধে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত বাবা ও মেয়ে এবং পাবনা সদর উপজেলায় হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ইজারাদারসহ দুজনের প্রাণ গেছে গুলিতে। এসব ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত:
পাবনায় হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছেন ইজারাদারসহ দুজন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া বাজারে ঘটে এ হত্যাকাণ্ড। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
নিহতরা হলেন— পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার আবদুস সালাম হাজি (৫৫) ও তার সহযোগী রিপন হোসেন (৫০)। তাদের বাড়ি আতাইকুলার ধর্মগ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে গতকাল হাটের বর্তমান ইজারাদার সালাম তার সহযোগীদের নিয়ে হাটে তাদের অফিস রুমে বসেছিলেন। হঠাৎ করেই কয়েক মুখোশ পরা ব্যক্তি তাদের ওপর গুলি চালায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বললেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করা হবে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।’
রাজশাহীর পবায় গত বুধবার রাতে ঘরে তালা দিয়ে এশার নামাজ পড়তে বের হন কৃষক আবুল কালাম আজাদ (৪৫)। রাত ১২টা পর্যন্ত তিনি ঘরে না ফেরায় চিন্তায় পড়েন তার স্ত্রী। একপর্যায়ে তিনি জানালা দিয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে ঘরে থাকা বিকল্প চাবি দিয়ে তালা খুলে খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও না পেয়ে ছাদে গেলে দেখতে পান, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তার নিথর দেহ।
নিহত আজাদ কৃষিকাজের পাশাপাশি পবার নওহাটা বাজারে সবজির দোকান চালাতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীও ছিলেন তিনি। তার তিন সন্তান। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। একমাত্র ছেলে ঢাকায় নার্সিং পড়ছেন।
পবা থানার ওসি আবদুল মতিন বললেন, নিহতের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়িতে শুধু নিহতের স্ত্রী ছিলেন। তিনি কী ঘটেছে, তা বলতে পারেননি। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাবা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছয় বছরের শিশুকন্যা তোওবা আক্তার ও তার বাবা গোলাপ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আর তার বাবা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে গতকাল সকাল ৯টার দিকে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামের মোল্লা ব্রিকসের পাশে একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে শিশু তোওবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশু তোওবার নানি তাসলিমা বললেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বললেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।



