মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় নোবিপ্রবি-ডিপিডিটির সমঝোতা স্মারক সই ও প্রশিক্ষণ

গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার নোবিপ্রবি উপাচার্যের কার্যালয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। স্মারকে নোবিপ্রবির পক্ষে সই করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। অন্যদিকে ডিপিডিটির পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন।
পরে নোবিপ্রবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলে (আইকিউএসি) নোবিপ্রবির বিভিন্ন অনুুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও গবেষকদের অংশগ্রহণে ট্রেনিং অন ‘পেটেন্টস টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার (TISC) সার্ভিসেস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নোবিপ্রবি উপাচার্য বলেছেন, এ যৌথ অংশীদারত্বের মাধ্যমে নোবিপ্রবির গবেষকরা পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা অর্জন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাস্বত্ব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিভিন্ন উদ্ভাবনের পেটেন্ট সুরক্ষা সহজতর হবে।
এ সময় প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং গবেষণাগার ব্যবহারে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বললেন, ‘শুধু সমঝোতা স্মারক সইয়ের মধ্যে এর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সরকারের ভিশনকে সামনে রেখে দ্রুতই নোবিপ্রবিতে পেটেন্টস টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টারের (টিআইএসসি) জন্য সব সুবিধাসহ অফিস ও প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো প্রস্তুত করা হবে।’
প্রশিক্ষণ পর্বে উপাচার্য গবেষণার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ তথা আইপি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কর্মশালায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন, গবেষণায় কারও মৌলিক অবদান যেন অন্য কেউ নিজের দাবি করতে না পারে, সেজন্য এ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণ পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পেটেন্ট ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেন, এর মাধ্যমে আমাদের গবেষণা ক্ষেত্রে নতুন একটি মাত্রা যুক্ত হলো। এর মাধ্যমে গবেষকের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের আইনগত ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা যাবে।
কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন ও ডিপিডিটির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষক ও উদ্ভাবকদের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা এবং ট্রেডমার্ক নিবন্ধনে সহযোগিতা দিতে সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর কাজ করছে। এখানে ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।’ একই সঙ্গে গবেষকরা আন্তর্জাতিক পেটেন্ট তথ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন বলেও মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।
নোবিপ্রবি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন এবং টিআইএসসির ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেছেন, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার নোবিপ্রবিতে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন এবং নকশার জন্য পেটেন্ট বা ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি পরামর্শ প্রদান করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, পেটেন্ট অনুসন্ধান এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে গবেষণাকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া যাবে। এটি অ্যাকাডেমিক গবেষণাকে বাস্তব ও অর্থনৈতিক সফলতায় রূপান্তরের একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছি। এ ছাড়া এর মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেক্চুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের সঙ্গে নোবিপ্রবি গবেষকদের একটি ব্রিজ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
নোবিপ্রবি আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবীর সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ পর্বে রিসোর্স পার্সন হিসেবে ছিলেন ডিপিডিটির উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, লুব-রেফ বাংলাদেশ লিমিটেডের (BNO Lubricants) পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ। এ ছাড়া এতে টিআইএসসির সাচিবিক দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা, নোবিপ্রবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।




