৪৭তম বিসিএস
রুয়েটিয়ানদের দখলে পররাষ্ট্র-প্রশাসন-পুলিশসহ ২৭ ক্যাডার

ছবি: আগামীর সময়
৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে পররাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশসহ ২৭টি ক্যাডার পদে সাফল্য পেয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্যাডারভিত্তিক পরিসংখ্যানে প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে। এ দুই ক্যাডারে ৬ জন করে মোট ১২ জন রুয়েটিয়ান সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ ছাড়া কর (ট্যাক্স) ক্যাডারে ৪ জন, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে ৪ জন, শুল্ক ও আবগারি (কাস্টমস) ক্যাডারে ৩ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২ জন এবং রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারে ২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী একাধিক বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের নজির গড়েছেন।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ। এ বিভাগ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ ছাড়া কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকে ৪ জন করে, পুরকৌশল বিভাগ থেকে ৩ জন এবং ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএসই), নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি), ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই), গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং (জিসিই) ও মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এমটিই) বিভাগ থেকে ১ জন করে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
গত রবিবার (২৮ জুন) প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৩২০ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১ জনসহ মোট ১ হাজার ৫২১ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
রুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ তুর্য্য। তিনি পুলিশ ক্যাডারে জাতীয় মেধাক্রমে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। এ ছাড়া একাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন, যা চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতারই প্রতিফলন।
টানা তিন বিসিএসে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম কবির বললেন, 'বিসিএসে ভালো করতে হলে নিজের একটি কার্যকর প্রস্তুতির কৌশল তৈরি করে সেটির ধারাবাহিক বাস্তবায়ন করতে হবে। নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত কাজ করতে হবে। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় লেখার ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই লেখার স্টাইলের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য। কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া যাবে না।'
রুয়েটের এ সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।
তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও রুয়েটের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, কূটনীতি, রাজস্বসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত রাখবেন।





