আমতলী
জমি নিয়ে বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ৬ জন হাসপাতালে

ছবি: আগামীর সময়
বরগুনার আমতলীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ছোটনীলগঞ্জ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোটনীলগঞ্জ এলাকার আবুল হোসেন গাজী ও রুস্তম হাওলাদারের মধ্যে তিন একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রুস্তম হাওলাদার লোকজন নিয়ে জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আবুল হোসেন গাজীর পক্ষের লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে আবুল হোসেন গাজী (৫০), খোকন (৩৫), মহসীন গাজী (২৮), জলিল গাজী (৪৪), জাহিদুল (৩৫), আখিনুর (৩০), সোনিয়া (৩৫), সোহেল মোল্লা (৪০), ফয়সাল (২৫), মাহবুবুর রহমান (৩২), ইমরান (২৪), সাইদুল গাজী (৪০), আমিনুল ইসলাম (১৬), দুলাল মুসুল্লি (৫৫), লুৎফর (৫৫), রুস্তম হাওলাদার (৭৫) ও পাশা হাওলাদার (৪৫) রয়েছেন। তাদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক জানিয়েছেন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে খোকন, সোহেল মোল্লা, জলিল গাজী, আখিনুর, রুস্তম হাওলাদার ও মাহবুবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত আবুল হোসেন গাজীর দাবি, তার পৈতৃক জমিতে রুস্তম হাওলাদার জোরপূর্বক লোকজন নিয়ে চাষাবাদ করতে আসেন। এতে বাধা দিলে তার পক্ষের ১৩ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমিতে চাষাবাদ করতে আসার ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে রুস্তম হাওলাদারের ছেলে পাশা হাওলাদার বলেছেন, জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আবুল হোসেন গাজী ও তার লোকজন বাধা দেন। এতে তার পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




