বিদ্যালয়টির ৭০ শিক্ষার্থীর ভরসা এক শিক্ষক

জামালপুরের মাদারগঞ্জের বালিজুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের মাদারগঞ্জের বালিজুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানের ৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক মাত্র একজন। ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
সকালে বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ে আসে শিশুরা। তাদের চোখে শেখার আগ্রহ, বড় হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষক সংকট। বিদ্যালয়টির ছয় অনুমোদিত পদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র একজন।
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ১৭ জন, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ১১ জন করে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ জন করে শিক্ষার্থী আছে। প্রতিদিন গড়ে ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই সঙ্গে পাঠদান করছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন। শিক্ষক সংকটের কারণে প্রতিটি শ্রেণিতে আলাদাভাবে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। এ সময় বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে অন্য শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থী। কেউ আবার বসে আছে শিক্ষকের অপেক্ষায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক বছর ধরে একজন শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এ কারণে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে কিংবা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন অভিভাবকরা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও কমে গেছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, একজন শিক্ষকই সব শ্রেণির ক্লাস নেন। তাই অনেক সময় বসে থাকতে হয়। এতে তাদের পড়াশোনার সমস্যা হচ্ছে।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাদিকুল ইসলাম সাদি বলেছেন, ‘স্যার যখন অন্য ক্লাশে পড়ান, তখন আমরা নিজেরা বই পড়ি। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলেও সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। আমাদের আরও শিক্ষক দরকার। এতে লেখাপড়ার পরিবেশ ভালো হবে।’
অভিভাবকদের ভাষ্য, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রধান শিক্ষক কোনো কাজে উপজেলা সদরে গেলে শিক্ষার্থীদের দেখভালের কেউ থাকেন না। আবার তিনি অসুস্থ হলে বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়। এতে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন বললেন, গত বছর বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক অবসর নেন। এরপর থেকে তিনি একাই পাঠদান, অফিসের কাজ, সরকারি প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন। সব শ্রেণিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গত ৯ জুলাই নুর ইসলাম উজ্জল নামে একজন শিক্ষককে এই বিদ্যালয়ে পদায়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের ভাষ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় অনেক শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে পদায়ন নিতে আগ্রহী না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। গত ৯ জুলাই নুর ইসলাম উজ্জল নামে একজনকে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা মোহাম্মদ আলী আহসান জানান, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পদায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কয়েকদিন আগে একজন শিক্ষককে পদায়ন করা হয়েছে। খুব দ্রুত সেখানে আরও শিক্ষক পদায়ন করা হবে।






