র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে দুই আসামি ছিনতাই, ৭ ঘণ্টা পর ফেরত
- ৭ ঘণ্টা পর আসামি ফেরত দিলো বিএনপি নেতারা
- প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৫

ছবি: আগামীর সময়
খুলনার দাকোপ উপজেলায় র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে প্রায় ৭ ঘণ্টা পর আবার র্যাবের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার পর আসামিদের দাকোপ থানায় দেওয়া হয়। আসামিরা হলেন মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজী। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আচাঁভুয়া বাজার এলাকা থেকে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছিল একদল বিক্ষুব্ধ জনতা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের বাইরের প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে আবদুল্লাহ ফকির, বাবলু সানা ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার কয়েক বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই ঘেরের মালিকানা নিয়ে তাদের সঙ্গে স্থানীয় মুকুন্দ মন্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজী গংদের বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এর জের ধরে গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘেরটি দখলের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার আকরাম আলী ফকির বাদী হয়ে মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীসহ বাচ্চু গংদের ১১ জনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় একটি মামলা করেন।
মামলা হওয়ার পর গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে আবদুল্লাহর পক্ষের লোকজন ওই ঘেরে মাছ ধরার সময় বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবারও হামলা চালায়। হামলায় জসিম মোল্লা, হাফিজুর মোল্লা, আবু মুসা শেখ, জাফর সরদার ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার গুরুতর আহত হলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার করা মামলার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাচ্চু ফকিরের লোকজন চালনা বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় র্যাব-৬ এর সদস্যরা ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে।
তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় বাচ্চু ফকিরের সমর্থকেরা র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেয় তারা। এই ঘটনার পরপরই উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান ও চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের বন্দোবস্তকৃত ও সরকারি ওই জমি জোর করে দখলে নিয়ে আবদুল্লাহ ফকির গংদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল। বিক্ষোভ মিছিল থেকে র্যাব এসে লোকজন ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরে তারা ঘটনাস্থলে যান। তবে র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনাটি অস্বীকার করেন।
সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে দাকোপ থানার ওসি খায়রুল বাসার জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশসহ যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে র্যাব-৬ এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের থানায় দেওয়া হয়েছে।






