সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট আবার চালু

ছবি: আগামীর সময়
সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট আবারও চালু হয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে ম্যানচেস্টার থেকে ২৬৮ জন যাত্রী নিয়ে বিমানের একটি ফ্লাইট (বিজি ২০৮) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রীদের ২২৭ জন সিলেটে অবতরণ করেন এবং ৪১ জন ঢাকায় যান।
বিমানবন্দরে ম্যানচেস্টার থেকে আসা যাত্রীদের স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)-এর চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ অতিথিরা।
এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, সিলেটের প্রচুর প্রবাসী যুক্তরাজ্যে থাকেন। তারা নিয়মিত দেশে আসা-যাওয়া করেন। এই প্রবাসীরা সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজকে ফ্লাইটটি চালু হলো।
মন্ত্রী জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আজকে এই ফ্লাইট এখানে এসে পৌঁছেছে। সিলেটবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর একটা আলাদা সফট কর্নার আছে। আমরাও সেই সফট কর্নারের মধ্যে চলে এসেছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য শুরু হওয়া এই সেবা ধারাবাহিকভাবে চালু থাকবে। যাত্রীসেবা আরও নিশ্চিত ও নির্ভরযোগ্য করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।
বিমানমন্ত্রী বললেন, সিলেট-কক্সবাজার রুটে সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে আমরা আলাপ করছি। আশা করছি শিগগিরই এটি চালু হবে।
ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি জানান, এটি হলে বিদেশি অনেক ফ্লাইটও সিলেটে আসবে।
সিলেট বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প (এক্সটেনশন ফেজ) কবে নাগাদ শেষ হবে এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘এক্সটেনশনের কাজ চলছে, আপনারা ধরে নিতে পারেন ২০২৭ সালের দিকে আমরা হয়তো এটা হাতে পেয়ে যাব। এটা আন্তর্জাতিকভাবে আরও ফোকাসড হয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্য এটাকে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া, কারণ এখানে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা অনেক বেশি আসতে চান। এ ছাড়া সিলেটকে আমরা একটি পর্যটন হাবে পরিণত করতে চাই।’
সিলেট-ঢাকা রুটে বিমান ভাড়ার উচ্চমূল্য সম্পর্কে তিনি জানান, ‘ভাড়া কমানোর ব্যাপারে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থাপনা ঘুচিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে হলেও এই রুটে ভাড়া কমাতে সরকার আন্তরিক।’
এ সময় বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ‘সিলেটকে দেশের একটি অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র বা ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। শুধু বিমান যাত্রী আনা-নেওয়াই নয়, বরং এই অঞ্চলের পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
এর ব্যাখ্যায় তিনি জানান, এই অঞ্চল ও এর আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে যাতায়াতের ফ্লাইট যেন সিলেট বিমানবন্দর ব্যবহার করে।
তিনি আরও বললেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উপযুক্ত পর্যায়ে উন্নীত হলে ভবিষ্যতে সিলেট থেকে গৌহাটিসহ অন্যান্য রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুরও ইচ্ছা রয়েছে।
তার ভাষায়, আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ সব যেন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়, এ লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা চালু থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, ‘ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চলমান সম্প্রসারণ শিগগিরই সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এই কাজ শেষ হলে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিকভাবে আরও বেশি ফোকাস পাবে।’




