যশোরের খরিচাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত, মাঠ জলাবদ্ধ

ছবি: আগামীর সময়
যশোর সদর উপজেলার খরিচাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে আরও চার বছর আগে। এরপর নির্মাণ হয়নি নতুন ভবন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তৈরি টিনের অস্থায়ী ঘরেই চলছে পাঠদান। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে কখনো কখনো একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শিক্ষক সংকটও। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম চলছে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে।
শুধু শ্রেণিকক্ষের সংকটই নয়, বিদ্যালয়টির একমাত্র খেলার মাঠের অবস্থাও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা এলেই সামান্য বৃষ্টিতে মাঠটি হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকে। ফলে টিফিনের সময় কিংবা ক্রীড়া ক্লাসে মাঠে খেলাধুলার সুযোগ পায় না শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার পর নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ চার বছরেও নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। অস্থায়ী ঘরে পাঠদান চালু রাখা গেলেও শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন মিটছে না।
শ্রেণিকক্ষের এই সংকটের সঙ্গে শিক্ষক সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিদ্যালয়ে ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র তিনজন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। কর্মরত অন্য দুই শিক্ষকও ডেপুটেশনে। ফলে সীমিতসংখ্যক শিক্ষককে দিয়েই বিদ্যালয়ের পুরো পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
শিক্ষার পরিবেশ যখন নানা সীমাবদ্ধতায় আটকে আছে, তখন শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগও প্রায় বন্ধ। বিদ্যালয়ের একমাত্র মাঠটি সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে ডুবে যায়। কোনো কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীরা সেখানে খেলতে পারে না; এমনকি অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিভাবকরা বলছেন, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। স্থানীয় লোকজন চাঁদা তুলে অস্থায়ী টিনের ঘর তৈরি করে দিয়েছে। তার ওপর বৃষ্টি হলে মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়।
অভিভাবকদের উদ্বেগের পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চৈতন্য কুমার হালদারের ভাষায়, ভবন সংকট ও মাঠের জলাবদ্ধতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জি এম আলমগীর কবির বললেন, ‘বিদ্যালয়টির সমস্যাগুলো সম্পর্কে তারা জানেন। নতুন ভবন বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে চাহিদাপত্র।’ তিনি আশ্বস্ত করেন, দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।



