যুবককে ‘গাছে বেঁধে মারধর’, হাসপাতালে মৃত্যু

নড়াইলে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের আটদিন পর মারা গেছেন মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবক। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
নিহত ব্যক্তির নাম আনোয়ার হোসেন (৩২)। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।
এ ঘটনায় গত সোমবার পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় এজাহার করেন নিহতের বড় ভাই নবীর হোসেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন আনোয়ার। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখেন এবং মারধর করেন।
বিবরণ থেকে জানা যায়, এক পর্যায়ে আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন প্রসেনজিত। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে জখম হয়। পরদিন ঘটনা জানাজানি হলে আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেছেন, ‘আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে পিটিয়েছেন অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।’
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা বললেন, ‘আনোয়ার তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর... বলে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।’
নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডুর ভাষ্য, এ ঘটনায় করা এজাহারটি মামলা আকারে গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।





