বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেটের নদীভাঙন ও বন্যা ঠেকাতে স্থায়ী সমাধান হবে

ছবি: আগামীর সময়
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেছেন, সিলেটে নদীভাঙন ও বন্যা মোকাবেলায় সরকার স্থায়ী সমাধানের পথে এগোচ্ছে। সুরমা ও কুশিয়ারার ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নদীর তীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থপনায় বাস্তবায়ন হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী একাধিক প্রকল্প।
তিনি সিলেটে উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরদারির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোনো এলাকায় উন্নয়ন কাজ হলে কাজের মান ও অগ্রগতি নিজের স্বার্থেই স্থানীয়দের নিয়মিত তদারকি করা উচিত।
আজ বুধবার ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (১ম পর্যায়)’ আওতায় সুরমার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধনে তিনি একথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সুরমা নদীর ভাঙন এবং চেঙ্গেরখালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। এরপর জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি স্থায়ী প্রকল্প নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি জানান, সুরমা নদীর মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা, মেন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানশাইলে ৫৫০ মিটার, টুকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পুনঃখনন, বাসিয়া নদীর ২৩ কিলোমিটার পুনঃখনন, গোয়াইন নদীর নয়াগাঁও এলাকায় ৫০৫ মিটার এবং সারি-গোয়াইন নদীর মেরিন একাডেমি এলাকায় ৮০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজও রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এসব কাজের একটি অংশের উদ্বোধন বুধবার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য প্রকল্পগুলোর কাজও শুরু হবে।
সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নেওয়া বড় প্রকল্পের কথাও তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সিলেটের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের জন্য প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অন্যতম অংশ সুরমা নদীর দুই তীরে ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ নির্মাণ ও সড়ক তৈরির কাজ।
তিনি বলেছেন, এসব অবকাঠামো শুধু বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে না, নগরবাসীর হাঁটার সুযোগও তৈরি করবে। সিলেট নগরে হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। নদীর দুই তীরের উন্নয়ন হলে এটি নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, সবার সমন্বয়ে আমরা সিলেটের চেহারা বদলে দেব। নির্বাচনের আগে যতগুলো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সবগুলো একে একে পুরণ করব।
এ সময় উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরদারি করার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, কোনো এলাকায় উন্নয়নকাজ হলে স্থানীয়দের নিজেদের স্বার্থেই কাজের মান ও অগ্রগতি নিয়মিত দেখতে হবে।
তিনি জানান, সরকারি উন্নয়নকাজে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়। এসব ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে উন্নয়নকাজের তদারকি করা যেতে পারে। কমিটিতে মসজিদের ইমাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রকৌশলী ও এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের রাখা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা সময় সময় দেখবেন কেমন কাজ হচ্ছে। আমার হক আদায় করার প্রতি যদি আমি যত্নবান না হই, কেউ আমার হক আদায় করে দেবে না। এই কথাটি মনে রাখবেন।’
উন্নয়নকাজ কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়, এটি একটি দলগত উদ্যোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে বাস্তবায়ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ স্থানীয় জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





