দুর্গাপূজায় স্ত্রীকে নিয়ে মণ্ডপে ঘোরা হলো না চন্দনের

সংগৃহীত ছবি
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখার কথা ছিল চন্দন পালিতের (২৩)। কিন্তু সেই আনন্দ আর পূর্ণ হলো না। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন তিনি। নববিবাহিত এই যুবকের মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
যশোরের কেশবপুরে মোটরসাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন চন্দন পালিত। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত চন্দন পালিত উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের পরিমল পালিতের ছেলে। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম পাটোয়ারী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চন্দন কেশবপুরের স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে কেশবপুর-কলাগাছি সড়কের নুড়িতলা এলাকায় অসাবধানতাবশত একটি বাইসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুলনায় নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চন্দন পালিতের বিয়ে হয়েছিল মাত্র এক বছর আগে। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। উৎসবের আনন্দের বদলে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
চন্দনের এমন অকালমৃত্যুতে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে।




