সোনালি আঁশের পথে পানির বাধা
- সাটুরিয়ায় পাটের উচ্চ ফলন হলেও বাড়তি ব্যয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘আগে বর্ষার সময় ক্ষেতে পানি আসত। সেই পানিতেই পাট কেটে জমিতেই জাগ দিতাম। এখন বৃষ্টির পানি ছাড়া জমিতে আর পানি থাকে না। তাই পাট কেটে খালে নিয়ে গিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ হয়ে গেছে প্রায় দ্বিগুণ’— কথাগুলো বলছিলেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের কৃষক মো. রাজা মিয়া (৫০)।
তার মতো শত শত কৃষক এবার মুখোমুখি হয়েছেন একই সমস্যার। বর্ষা মৌসুম হলেও পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ফলে শ্রম, সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মানসম্মত আঁশ উৎপাদন নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
কোথাও ক্ষেতে এখনো পরিপক্ব পাট দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোথাও কৃষক পাট কেটে জমির পাশে স্তূপ করে রেখেছেন। অনেকেই অল্প পানিতে মাটিচাপা দিয়ে কোনো রকমে জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অধিকাংশ কৃষক পর্যাপ্ত পানির অভাবে কয়েক কিলোমিটার দূরের খাল, নদী কিংবা জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন। এতে পরিবহন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি শ্রম ও সময় বেশি লাগছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ধরা হয়েছিল ৪৫৪ হেক্টর জমিতে। তবে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৪৬১ হেক্টরে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। অর্থাৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়লেও জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকট এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকের সামনে।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাকের ভাষায়, ‘পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেকেই অন্য এলাকায় পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। তবে যেসব খাল, ডোবা ও জলাশয়ে পানি রয়েছে, সেখানে কৃষক জাগ দিতে পারছেন।’




