ভুট্টা মাড়াই শ্রমিকের ক্লান্ত বাড়ি ফেরা

ছবি: আগামীর সময়
পাকা সড়ক ধরে দ্রুত এগিয়ে চলছে একটি ভ্যান। ভ্যানের পেছনে ভুট্টার খালি বস্তার ওপর হয়ে শুয়ে আছেন এক ব্যক্তি। চারপাশে সবুজ ক্ষেত, মাথার ওপর দুপুরের ক্লান্ত আলো। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে তিনি হয়তো একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন।
কিন্তু স্থানীয়দের ভাষ্য—এটি বিশ্রামের দৃশ্য নয়, বরং দীর্ঘ শ্রম শেষে শরীরের অবসন্নতার একটি সাধারণ চিত্র।
ছবিটি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কালো পীর এলাকায় তোলা। এখন চলছে ভুট্টা মাড়াইয়ের মৌসুম। একই সঙ্গে সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। ফলে কৃষিকাজ ও মৌসুমি শ্রমে যুক্ত মানুষের ব্যস্ততা এখন বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বেশি।
ছবির ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। তিনি ক্লান্ত অবস্থায় শুয়ে থাকায় তাকে ডেকে কথা বলা হয়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, তিনি ভুট্টা মাড়াই বা বহনের কাজে যুক্ত কোনো শ্রমিক।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টা সংগ্রহ, শুকানো, মাড়াই ও পরিবহনের কাজ একসঙ্গে চলে। অনেক শ্রমিক সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে কাজ করেন। কাজ শেষে কেউ ট্রলি, কেউ ভ্যান বা যেভাবে সম্ভব বাড়ি ফেরেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানালেন, এখন ভুট্টার কাজ অনেক। সকাল থেকে মাঠে থাকে মানুষ। গরমও বেশি। অনেককে দেখি কাজ শেষে ফেরার সময় খুব ক্লান্ত হয়ে যায়।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, ঈদ সামনে থাকায় যারা দিনমজুর বা কৃষিশ্রমিক তারা এখন বেশি কাজ করার চেষ্টা করছে। কারণ সামনে সংসারের খরচ, ঈদের বাজার—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জনপদগুলোতে ভুট্টা এখন গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। তবে মাঠের উৎপাদনের পেছনে থাকা শ্রমিকদের দৈনন্দিন বাস্তবতা খুব একটা আলোচনায় আসে না। দিনের পর দিন খোলা রোদে কাজ করে অনেকেই বাড়ি ফেরেন চরম শারীরিক ক্লান্তি নিয়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সময়ে অনেক শ্রমিক পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। কারও সন্তান স্কুলে পড়ে, কারও সামনে ঈদের কেনাকাটা, কারও আবার সংসারের নিয়মিত ব্যয়। ফলে শরীর ক্লান্ত হলেও কাজ থামে না।
পীরগঞ্জের কালো পীর এলাকার ভ্যানের ওপর শুয়ে থাকা মানুষটির নাম জানা হয়নি। তবে দৃশ্যটি যেন একটি বড় বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি—ঈদের আনন্দের প্রস্তুতির আড়ালে এখনও অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন শ্রম আর দায়িত্ব নিয়ে বাড়ি ফেরেন নীরবে।







