কাগজপত্র নেই ২৭ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিকের
- নাঙ্গলকোটের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নানা অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় রয়েছে ২৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ১১টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ১৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নিবন্ধন হালনাগাদ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অদক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভুল রিপোর্ট, চিকিৎসায় অবহেলা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে অস্ত্রোপচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকায় কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে অনিয়ম। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই করা হচ্ছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার। এমনকি একজন চিকিৎসক দিয়ে একই সময়ে অ্যানেস্থেশিয়া ও অস্ত্রোপচার করার অভিযোগও রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের বাইরে ২৪ ঘণ্টা সিজারিয়ান সেবার বিজ্ঞাপন থাকলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল রয়েছে কি না— তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত অভিযান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, লাইসেন্স ও নিবন্ধন নবায়ন না থাকলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা।
মাহিনী গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবর জানিয়েছেন, নাঙ্গলকোটের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানোর পর তাকে একটি রোগের কথা জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। পরে কুমিল্লা শহরে একই পরীক্ষা করালে মিল পাওয়া যায়নি আগের রিপোর্টের সঙ্গে।
আলীয়ারা গ্রামের আকরামও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার পর শনাক্ত করা হয়েছিল বড় ধরনের রোগ। পরে লাকসামে পরীক্ষা করালে ওই রোগের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলকভাবে অভিযান চালানো অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চাকমার বক্তব্য, ‘স্বাস্থ্য খাতে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলার প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ধাপে ধাপে অভিযান চালানো হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চিকিৎসক ও জনবল এবং স্বাস্থ্যসেবার মান যাচাই করা হবে।’




