ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিসিকে গ্যাস সংকট, অর্ধেকে নেমেছে উৎপাদন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিসিক শিল্পনগরী। ছবি: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিসিক শিল্পনগরীতে তীব্র গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন। প্রয়োজনীয় চাপের গ্যাস না পাওয়ায় গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোর উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। এতে শিল্প মালিকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আয়ও কমেছে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংকটের দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে আরও দুই থেকে তিন মাস।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিসিক শিল্পনগরীতে বর্তমানে ৬৮টি কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর। গত এক মাস ধরে এসব কারখানায় গ্যাসের চাপ ৩ থেকে ৫ পিএসআইয়ের মধ্যে রয়েছে। অথচ স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৫ পিএসআই চাপের গ্যাস।
প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় সিলিকেট, গুনা ও সাবান উৎপাদনকারী কারখানাগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। খলিল বশির গুনা কারখানার মার্কেটিং কর্মকর্তা শাহিন মোল্লা জানিয়েছেন, গ্যাস সংকটে তাদের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে প্রতিদিন প্রায় চার টন পণ্য উৎপাদন হলেও এখন দুই টনও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
উৎপাদন কমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি কম উৎপাদনের কারণে লোকসানও বাড়ছে। এ কারণে নতুন অর্ডার নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক প্রতিষ্ঠান সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের আয়েও। খলিল বশির গুনা কারখানার শ্রমিক মোহাম্মদ সোহেল রানা জানিয়েছেন, আগে তিনি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করতেন। এখন গ্যাস সংকটের কারণে আট ঘণ্টার বেশি কাজ থাকে না। এতে আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিসিক শিল্পনগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রোকন উদ্দিন জানিয়েছেন, গ্যাসের নিম্নচাপের বিষয়টি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা নেই। সংকট কাটতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম-প্রকৌশল) মো. শফিকুল হক জানিয়েছেন, বিসিক শিল্পনগরী ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে পৃথক পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিল্পকারখানাগুলোকে নিম্নচাপের সমস্যায় থাকতে হবে।





