রংপুরের তারাগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার খালি, দায়িত্বে ভারপ্রাপ্তরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৭৫টি। এর মধ্যে ৩৫টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অর্থাৎ উপজেলার প্রায় ৫৩ শতাংশ বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, শিক্ষার্থী তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে এসব বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় সবচেয়ে বেশি বাড়তি চাপ পড়ছে সহকারী শিক্ষকদের ওপর। নিজেদের নির্ধারিত শ্রেণিতে পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা তদারকি এবং দাপ্তরিক কাজ— সবকিছু সমন্বয় করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
শুধু প্রশাসনিক কাজের চাপই নয়, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায়ও। শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তদারকি, সভা আয়োজন এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নেও অনেক সময় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ভাষায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সঠিক তদারকির অভাবে অনেক স্কুলেই শিক্ষার মান দিন দিন নেমে যাচ্ছে। তার মতে, দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতির মাধ্যমে এ সংকট সমাধান করা প্রয়োজন।
অভিভাবকদের এমন উদ্বেগের সঙ্গে একমত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও। তারাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাগমা সিলভিয়া খান বললেন, ‘প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন সমস্যার মুখে। অনেক সময় তাদের নির্দেশনা বাস্তবায়নেও সৃষ্টি হয় জটিলতা।
তবে প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষক সংকট কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানালেন, শিগগিরই তারাগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় ৩৬ জন সহকারী শিক্ষক যোগদান করবেন। তিনি আশা করেন, এতে শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফিরবে।



