আমতলীকে বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা ঘোষণা

ছবি: আগামীর সময়
বরগুনার আমতলী উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আমতলী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান হাফিজুর রহমান।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এপির সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এনএসএস মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন কর্মকর্তা ও সাংবাদিক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসএস নির্বাহী পরিচালক ও সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বরিশাল এপিসির সিনিয়র ম্যানেজার স্টিফেন হালদার রুবেন, টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট হুমায়ুন কবির এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এপির এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার দত্ত, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রূপকুমার পাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাসেল, উপজেলা বন কর্মকর্তা মনিরুল হক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম, উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী, উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাহমুদ সেলিম এবং আমতলী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকির, সাবেক সদস্য সচিব তুহিন মৃধা, আমতলী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম বাদল, সুশাসনের জন্য নাগরিক— সুজনের আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জিহাদ, আমতলী প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন মাতুব্বর, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী আবদুর সালেহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এনএসএস আমতলীর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃদুল সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিগত সময়ে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও অর্জন নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
প্রেজেন্টেশনে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলো, শিশুদের শিক্ষা, অধিকার সুরক্ষা, পরিবার ও সমাজের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যা নয়; এটি শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা , শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। বাল্যবিবাহের কারণে বিশেষ করে কন্যাশিশুদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অল্প বয়সে মাতৃত্বের কারণে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।




