স্মৃতির আঙিনায় এক স্বপ্নদ্রষ্টা
নাগরিক শোকসভায় মনসুর নোমানকে অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা

কুষ্টিয়াতে আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমানের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়েছে নাগরিক শোকসভা। ছবি: আগামীর সময়
কক্ষজুড়ে শোকের ছায়া। চারপাশে থমথমে নীরবতা। প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনায় ভারী বাতাস। এমনই এক বিষাদময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো অকালপ্রয়াত আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমানের নাগরিক শোকসভা। রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে কুমারখালীর কাঙাল হরিনাথ মজুমদার স্মৃতিজাদুঘর মিলনায়তনে এই সভা হয়। নোমানের বন্ধু ও স্বজনেরা মিলে আয়োজন করেন এই শোকসভার।
তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ। কাজ করেছেন কৃষি উন্নয়ন কর্মী হিসেবে। এছাড়া তিনি মহেন্দ্রপুর সংস্কৃতি ধারা ও বর্ণমালা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা।
সাংবাদিক ও কবি কাজী সাইফুলের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গণযোগাযোগ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবু নাসের রাজীব।
সভায় স্মৃতির পাতা উল্টে আবেগঘন বক্তব্য দেন কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস, কবি মুরাদ জোয়ার্দার এবং সাংবাদিক হাবিব চৌহান। আলোচনায় আরও অংশ নেন সমাজচিন্তক মনিরুজ্জামান মানিক, চিত্রপরিচালক মনজুরুল হক পান্না, সহকারী অধ্যাপক এস এম গোলাম আজিজ বাবু ও সংগীত পরিচালক শেখ মিলন।
নোমানের জীবনের গল্প শোনান তার বড় বোন জাকিয়া নাসরিন ও ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলাম সালেক।
বক্তারা বলেন, নোমান ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ গুণী ব্যক্তিত্ব। তার স্মৃতি সমাজ থেকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। তাই তার নামে বহুমুখী সামাজিক কর্মকাণ্ড চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারা। শোকসভা শেষে নোমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কুমারখালী স্টেশন জামে মসজিদের খতিব আব্দুস সালাম বিন ইউসুফ।
আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমানের প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে শোকের মাতম। তার অকালমৃত্যুতে ফেসবুকে দেওয়া অজস্র পোস্টে ভেসে উঠছে ভালোবাসার স্মৃতি। নেটিজেনরা তাকে আখ্যা দিচ্ছেন একজন নিরহংকারী স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে।
গত ৬ আগস্ট বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর রেলগেট এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান নোমান। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটে এই দুর্ঘটনা। তিনি কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রশিদের ছেলে।





