একই নামে সরিষাবাড়ীর দুই কলেজ, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

সরিষাবাড়ী কলেজ ও সরিষাবাড়ী সরকারি কলেজ। ছবি : আগামীর সময়
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্রায় অভিন্ন নামে দুটি কলেজ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি ও বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিপ্রার্থীরা। ভর্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, সনদ যাচাই, চাকরির আবেদন, সরকারি-বেসরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও অনলাইন কার্যক্রমে প্রায়ই দুই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী সরিষাবাড়ী কলেজ। এই কলেজে একাদশ-দ্বাদশ, ডিগ্রি (পাস) ও স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত।
অন্য প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালে সরিষাবাড়ী কলেজ থেকে মাত্র ২৫০ মিটার দূরে বঙ্গবন্ধু কলেজ নামে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তও হয়। পরে ২০১৯ সালে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারি করার প্রক্রিয়ার আওতায় প্রতিষ্ঠানটি সরকারি করা হয়।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ ছাড়াই শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাবেক সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের নাম পরিবর্তন করে ‘সরিষাবাড়ী সরকারি কলেজ’ রাখে। ফলে একই উপজেলায় আগে থেকেই থাকা সরিষাবাড়ী কলেজ এবং নতুন নাম পাওয়া সরিষাবাড়ী সরকারি কলেজের নাম প্রায় অভিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নামের এই মিলের কারণে শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, পরীক্ষার কেন্দ্র ও রেজিস্ট্রেশন, সনদ যাচাই, চাকরির আবেদন এবং সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের চিঠিপত্র আদান-প্রদানে নিয়মিত বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় যোগাযোগ বা কাগজপত্র ভুল প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি বিড়ম্বনায় পড়ছেন দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক (অব.) গোলাম কিবরিয়া বলেছেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই বা প্রায় একই নামে দুটি প্রতিষ্ঠান থাকলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং প্রশাসনিক কাজে স্বাভাবিকভাবেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ সমস্যা নিরসনে দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম, পরিচিতি এবং সরকারি নথিপত্রে সুস্পষ্ট পার্থক্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ।’
সরিষাবাড়ী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিমুল এহছান বলেছেন, ‘দুটি কলেজের নাম প্রায় একই হওয়ায় দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি সমাধানের দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি এবং সরিষাবাড়ী সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছি। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, দ্রুত বিষয়টির একটি সুন্দর ও স্থায়ী সমাধান করা হোক।’
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখবে। এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য জানতে চাওয়া হয়নি।






