১০০ টাকায় ফ্যামিলি কার্ড ‘বিক্রি’ করছেন বিএনপি নেত্রী!

ধামরাই মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।
দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্নটুকু নিয়েই যেন শুরু হয়েছে নতুন বাণিজ্য। বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও ধামরাইয়ের গ্রামগুলোতে 'ফ্যামিলি কার্ড' পাইয়ে দেওয়ার নামে চলছে একশ টাকার জালিয়াতি বাণিজ্য। এই প্রতারণা চক্রের মূল হোতা ধামরাই মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।
এমপির দোহাই ও দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হতদরিদ্র শতাধিক নারীর কাছ থেকে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন নগদ অর্থ। তার সহযোগী হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন সিন্ধুলিয়া এলাকার নাছিমা আক্তার নামে এক নারী। তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং নগদ একশ টাকা করে নিতেন। পরে তা বিএনপি নেত্রীর কাছে জমা দিতেন।
বানেশ্বর গ্রামের ভুক্তভোগী শিরিন আক্তার ও রূপবান জানান, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আশায় তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ একশ করে টাকা জমা দিয়েছেন। শুধু তারাই নন, এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের কাছ থেকে এভাবেই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদা ইয়াসমিন কালিদাসপট্টি গ্রামে ছেলের শ্বশুরবাড়িতে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি উপস্থিত নারীদের কাছে দাবি করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ধামরাইয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য একমাত্র তাকেই দায়িত্ব দিয়েছেন।
শিক্ষক থেকে রাষ্ট্রপতি
১৩ আগস্ট ২০২৬
সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রুস্তম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই সাধারণ মানুষকে টাকা দিতে বারণ করেছি। এমপি সাহেবের নাম ভাঙিয়ে এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এভাবে অসহায় মানুষের পকেট কাটা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে শুরুতেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন ফরিদা ইয়াসমিন। ভুক্তভোগী নারীদের নাম ও টাকার অঙ্কের প্রমাণ তার সামনে তুলে ধরা হলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।
ধামরাই উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এস এম হাসান জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল মামুন বলেন, লিখিত অভিযোগ না থাকলেও আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সরকারি কার্ডের নামে টাকা তোলার প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের বাইরে থাকা স্থানীয় সংসদ সদস্য ফিরলে বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যালোচনার জন্যও সুপারিশ করা হবে।




