আগামীর সময়ে সংবাদ
এমপির হস্তক্ষেপে নবাব ফয়জুন্নেছার ওয়াকফের জমি রক্ষা

অবশিষ্ট ৭১ শতাংশ জমি নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের পাশে। এই জমি দখলে নেওয়ার জন্য কলেজ সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে বাধা দেয় ভূমিদস্যুরা
কুমিল্লার লাকসামে অবশেষে দখলের হাত থেকে রক্ষা পেল নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ওয়াকফকৃত ৭১ শতক জমি। যা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত।
গত ১০ সেপ্টেম্বর দৈনিক আগামীর সময়ে ‘নবাব ফয়জুন্নেছার ওয়াকফের বাকি জমিটুকুও কি দখল হয়ে যাবে?’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।
এ দিকে ভূমিদস্যুদের বাধা উপেক্ষা করে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ ৯০ ভাগ সম্পন্ন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রের মাধ্যমে কলেজের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ চলছিল। কলেজ ক্যাম্পাসের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ওয়াকফকৃত ৬৩০ নম্বর খতিয়ানের ২২২২ দাগের ৭১ শতক জমি রয়েছে। জমিটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নামে সরকারি গেজেটভুক্ত। ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন এবং একই বছরের ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ গেজেটের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কলেজ ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে বাধা দেয় ভূমিদস্যুচক্রটি। সেখানে বালু ফেলে দখল করে প্লট আকারে বিক্রির চেষ্টা করে চক্রটি। এ কারণে তারা দফায় দফায় কলেজের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজেও বাধা দেয়।
ভূমিদস্যুদের এমন অপতৎপরতায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ওয়াকফকৃত ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নামে গেজেটভুক্ত সম্পত্তি উদ্ধারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছিলেন। এবার সেই জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিলেন সংসদ সদস্য ও মো. আবুল কালাম।
সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া এবং ওয়াকফকৃত জমি রক্ষায় সহযোগিতার জন্য সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রতি ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মুনির আহাম্মদ।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম বলেন, ‘ভূমিদস্যুদের কোনো দল নেই। অপরাধীরা যেই দলেরই হোক, তাদের পরিচয় একটাই, অপরাধী।’
তিনি বলেন, ‘নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ওয়াকফকৃত, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বা জাদুঘরের সম্পত্তি কোনোভাবেই বেহাত হতে দেওয়া যাবে না। এই মহীয়সী নারীর ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পত্তি রক্ষায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।’



