ভোলায় নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইলিশ বিক্রি, বরাদ্দের অভাবে বন্ধ অভিযান
- ভোলায় ইলিশ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ

সংগৃহীত ছবি
ইলিশ রক্ষায় বিশেষ প্রকল্প ছিল, ছিল বাড়তি অর্থ বরাদ্দ, স্পিডবোট ও জ্বালানি সহায়তা। কিন্তু ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতেই বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন রাজস্বের সীমিত বরাদ্দে সাত উপজেলায় চলছে মা ইলিশ রক্ষার ২২ দিনের অভিযান। কমেছে অভিযানের সংখ্যা, স্পিডবোটের বদলে টহল চলছে ট্রলারে। এর মধ্যেই ভোলার বিভিন্ন স্থানে গোপনে ইলিশ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার পর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান কতটা কার্যকর থাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ইলিশসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত জুনে। প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ছয় বিভাগের ২৯ জেলার ১৩৪ উপজেলায় ইলিশ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রকল্প চলাকালে রাজস্ব বরাদ্দের বাইরে উপজেলা পর্যায়ে এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় ৬ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতো। পাশাপাশি স্পিডবোট, জ্বালানি তেল, লোকবল ও আইন বাস্তবায়নের জন্যও অর্থ দেওয়া হতো। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন রাজস্ব বরাদ্দের ওপর নির্ভর করেই অভিযান চালাতে হচ্ছে।
চলতি বছর ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনায় ভোলার সাত উপজেলায় রাজস্ব খাত থেকে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ কর কর্তনের পর অবশিষ্ট থাকে ৮ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো উপজেলায় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ একটি অভিযান পরিচালনায় কমপক্ষে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে প্রতিটি উপজেলায় দিন-রাতে চার থেকে পাঁচটি অভিযান পরিচালনা করা হতো। এবার বরাদ্দের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় আগের মতো অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। খরচ কমাতে ব্যবহার করা যাচ্ছে না স্পিডবোট। ট্রলার নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে অবৈধভাবে মাছ ধরা জেলেদের ধাওয়া করতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় লোকবল সংকটও বেড়েছে। তবে সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, জেলার বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে জেলেদের ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ বিক্রির এমন চিত্রে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা না গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা সৃষ্টি হবে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেছেন, ‘ইলিশ উন্নয়ন প্রকল্প যখন ছিল, ওই প্রকল্পের টাকায় বেশ ভালোভাবে অভিযান চালানো যেত। এবার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অর্থ ও লোকবল সংকটে অভিযান চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছি। মারাত্মক সমস্যায় আছি।’ তবে তাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রকল্পের সাবেক পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ বললেন, ‘আমি তো এখন আর এর খোঁজখবর নিচ্ছি না। আমার সময় আমি সাপোর্ট দিয়েছি। স্পিডবোট, টাকা, তেল, আইন বাস্তবায়নের জন্যও টাকা দিয়েছি। এখন রাজস্ব থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু রাজস্বের অর্থে অভিযান পরিচালনা করা খুবই কঠিন।’



