সংযোগ আছে, তবে গ্যাস নেই চুলায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফেনীতে গ্যাসের সংযোগ আছে, নিয়মিত বিলও দিচ্ছেন গ্রাহকরা। কিন্তু দিনের বেশিরভাগ সময় জ্বলছে না চুলা। গ্যাস আসে রাতে, অথচ তখন রান্নার প্রয়োজন প্রায় শেষ। জেলার প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার এমন ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিশেষ করে মূল সঞ্চালন লাইন থেকে দূরের এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেশি। দিনের রান্না চালাতে তাদের অনেককেই বাড়তি টাকা খরচ করে এলপিজি কিনতে হচ্ছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ফেনী কার্যালয়ের তথ্য বলছে, জেলায় প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক ও অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহক প্রায় ২০ হাজার।
গ্যাসের এ সংকট সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়েছে মূল সঞ্চালন লাইন থেকে দূরের এলাকাগুলোতে। শহরের মিজান রোড, বিরিঞ্চি, পেট্রোবাংলা ও পূর্ব উকিলপাড়া; শহরতলির ফলেশ্বর, চেওরিয়া, আরামবাগ, কালিপাল ও পশ্চিম রামপুর এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ কম থাকে বা গ্যাস থাকে না। একই অবস্থা সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের আমিন বাজার, বরইয়া, মঠবাড়িয়া ও পিঠাপশারি এবং কালিদহ ইউনিয়নের সিলোনিয়া ও লালপুল এলাকায়।
শুধু সদর উপজেলার এলাকাগুলোতেই নয়, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা ও কাশিমপুর এবং দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর বারাহিগোবিন্দ, দক্ষিণ বারাহিগোবিন্দ, মোল্লাঘাটাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায়ও দিনের বেলায় গ্যাস না থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফলে গ্যাস সংযোগ থাকা সত্ত্বেও এসব এলাকার অনেক পরিবারকে রান্নার জন্য বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
মিজান রোডের বাসিন্দা তানজিলা রহমানের ভাষ্য, বেশিরভাগ সময়ই থাকে না গ্যাস। রাতে এলেও তখন রান্নার সময় থাকে না। নিয়মিত বিল দেওয়ার পরও এভাবে গ্যাস না পাওয়ায় তাদের ভোগান্তি বাড়ছে।
একই ধরনের অভিযোগ মাথিয়ারা এলাকার বাসিন্দা মাইন উদ্দিনের। তার অভিযোগ, নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধ করলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস অফিসে একাধিকবার অভিযোগ করেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
গ্রাহকদের এসব অভিযোগের পেছনে সঞ্চালন লাইনের দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ-ঘাটতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমসের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে যুক্ত কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের বাইরের দিকে থাকা পাশের সঞ্চালন লাইনের কিছু অংশে প্রায় ১০ বছর ধরে নিয়মিত মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হয়নি। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এসব লাইনে ময়লা জমে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা কমেছে বলে তারা মনে করছেন।
শুধু সঞ্চালন লাইনের সমস্যাকেই গ্যাস-সংকটের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছে না বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামানের ভাষায়, বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা গ্যাসের চাপ কম থাকা ও সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ পাচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে কয়েক মাস ধরে সঞ্চালন লাইন মেরামত ও প্রয়োজনীয় কিছু অংশ পরিবর্তনের কাজ চলছে।
তার আশা, পুরনো লাইন সংস্কার করা হলে দূরের এলাকাগুলোতে গ্যাসের চাপ বাড়বে। তবে এর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।



