গজারিয়া
বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুতে!

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি সেতুর দুপাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের দশ সহস্রাধিক মানুষ। ইমামপুর ইউনিয়নের বাঘাইকান্দী-কালীপুরা এলাকায় সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সড়ক না থাকায় বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রসুলপুর জিসি-কালীপুরা ভায়া ইমামপুর সড়কে ৫৬ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম দফায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ৬ হাজার ৩৫ টাকা ব্যয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি সেতুর পাইল, অ্যাবাটমেন্ট, পিয়ার ক্যাপ ও ওয়াল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এ পর্যন্ত সম্পন্ন কাজের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।
পরে প্রকল্পের ব্যয় সমন্বয় করে দ্বিতীয় দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর ২ কোটি ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ৪১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে ওরিয়েন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অবশিষ্ট কাজ সম্পন্নের দায়িত্ব পায়। টেন্ডার ও কার্যাদেশের কাজ মুন্সীগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সম্পন্ন করলেও প্রকল্প তদারকির দায়িত্ব রয়েছে গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের ওপর।
কার্যাদেশ অনুযায়ী সেতুর কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই। তবে সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও দুপাশের সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. দেলোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজের সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। তার ভাষ্য, প্রকল্প এলাকায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় অনেক সময় কাজ ব্যাহত হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বড় কালীপুরা-বাঘাইকান্দী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও দুপাশে মাটি ভরাট ও পাকা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষিপণ্য পরিবহনকারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর পশ্চিম প্রান্তের সংযোগ সড়ক ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর পড়ায় কাজ আটকে আছে। জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ বা বাজারমূল্য পরিশোধ করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নদী বা পানিপ্রবাহের ওপর সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে স্রোতের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি সমকোণে সেতু নির্মাণের বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম অনুসরণ করায় সেতুর পশ্চিম অংশের সংযোগ সড়ক ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর পড়েছে।
এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। কম পরিমাণ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই এবং প্রয়োজন হলে পশ্চিম প্রান্তে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের ব্যয় যুক্ত করে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা বুদ্দি মিয়া ও রাহেলা বেগম উল্লেখ করেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর সুফল থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে এবং যাতায়াতও সীমিত হয়ে পড়েছে।
গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন জানিয়েছেন, সেতু এলাকায় জমি-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান আছে এবং দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সেতু নির্মাণে আরেকটি বড় ত্রুটি রয়েছে। তাদের মতে, সেতুর উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ায় এর নিচ দিয়ে কোনো ধরনের নৌযান চলাচল করতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে নদীপথ ব্যবহার আরও বাধাগ্রস্ত হয়, যা স্থানীয়দের জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




