নিখোঁজের দুই দিন পর ভারতে মিলল বাংলাদেশি কিশোরের মরদেহ

শাকিলের মরদেহ বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছে ভারতীয় পুলিশ
আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে মো. শাকিল মিয়া (১৪) নামের এক কিশোরের মরদেহ হস্তান্তর করেছে ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরা থানা পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর ও ভারতের আগরতলার সানমোড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়।
শাকিল আখাউড়ার দক্ষিণ ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসার ওরফে মালু মিয়ার ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শাকিল মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। বুধবার রাত থেকে সে নিখোঁজ ছিল। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। শনিবার বিকালে আবদুল্লাহপুর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতের সানমোড়া এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিজিবিকে জানানো হয়। পরে ভারতীয় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বৈঠকের পর রবিবার বিকালে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
পশ্চিম ত্রিপুরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানিস পাল শাকিলের লাশ আখাউড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাকের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই সময় কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুস সাকিব, আখাউড়া থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম এবং ফকির মোড়া বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নিরাময় চাকমাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
শাকিলের বাবা আবুল বাসার ওরফে মালু মিয়া বললেন, ‘আমার ছেলে শাকিল মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল। সে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আমার মেয়ের বিয়ে ছিল বৃহস্পতিবার। এর আগের দিন ছিল গায়ে হলুদ। গায়ে হলুদের রাত থেকে শাকিলকে আর খোঁজে পাওয়া যায়নি। অনেক খুঁজেছি, পাইনি। শনিবার জানতে পারলাম ভারতের ভেতরে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে একটি ব্রিজের কাছে একটি লাশ দেখতে পাওয়া গেছে। পরে গিয়ে দেখি আমার ছেলে শাকিলের লাশ। আমার ধারণা, শাকিলকে জ্বিনে ওখানে নিয়ে মেরে ফেলেছে। কারণ শাকিল অসুস্থ। তার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই।’
আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইউনুছ মিয়া বলেন, ‘শাকিলের সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। সে অসুস্থ, মানসিক প্রতিবন্ধী। তাদের পরিবারে কোনো সমস্যা নেই। ধারণা করা হচ্ছে, জ্বিনে শাকিলকে মেরে ফেলেছে।’
কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুস সাকিব জানান, কীভাবে শাকিল সীমান্তের শূন্যরেখায় গেল এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি বললেন, ‘শনিবার বিকালে আগরতলা পশ্চিম থানার পুলিশ শাকিলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করে রবিবার বিকালে আমাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে। তবে আগরতলায় হওয়া শাকিলের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এনে এবং আমাদের করা সুরতহাল রিপোর্ট মিলিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে। পুলিশের প্রক্রিয়া শেষ করে পরিবারের কাছে শাকিলের মরদেহ দেওয়া হবে।’
সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘ছেলেটি অসুস্থ ছিল। এই কারণেই ছেলেটি মারা যেতে পারে।’



