নবগঙ্গা ‘গিলছে’ নড়াইলের ইসলামপুর
- নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন

নড়াইলের নড়াগাতী থানার ইসলামপুরে নবগঙ্গার ভাঙন রোধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। ছবি: আগামীর সময়
নড়াইলের নড়াগাতী থানার মাউলি ইউনিয়নের ছোট্ট একটি গ্রাম ইসলামপুর। নবগঙ্গা নদীবেষ্টিত গ্রামে বাস করেন রোজিনা বেগম। তার সবচেয়ে বড় ভয় রাত। অন্ধকার নামলেই নদীর স্রোতের শব্দ যেন আরও কাছে চলে আসে। মনে হয়, এই বুঝি মাটি ধসে গিয়ে নদীর পেটে চলে যাবে শেষ আশ্রয়টুকু।
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে রোজিনা বলছিলেন, ‘ভাঙনের ভয়ে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকতে হয় আতঙ্কে। ওরা ভয় পায়, রাতে ঠিকমতো পড়তেও পারে না। একটা গরু পুষি, তাও বাইন্ধে রাখার মতো জায়গা নেই। পরের জায়গায় রাখি।’
‘একটাই দাবি, নদী বাইন্ধে দেন’— রোজিনা বেগমের এই আর্তি শুধু একটি পরিবারের নয়। ইসলামপুর গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারের গল্পই কমবেশি এমন। এক দশক ধরে নবগঙ্গা নদীর ভাঙনে গ্রামটি হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। নদী শুধু ঘরবাড়ি গিলে খাচ্ছে না, কেড়ে নিচ্ছে মানুষের জমি, জীবিকা, স্মৃতি আর নিরাপত্তাবোধ। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা খাজা ফকিরের ভাষায়, ‘এক দশকে অন্তত ৬০টি বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে নদীতে।’ নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার অনুরোধ, দ্রুত ভাঙন রোধে কাজ করেন। গ্রামটি রক্ষা করেন।
এদিকে গত ৩ জুলাই নদীপাড়ে মানববন্ধন করেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। সেখানে তারা দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এত বছর ধরে ভাঙন চললেও নেওয়া হয়নি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ।
অবশ্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, তারা দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নড়াইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহার ভাষ্য, ‘মধুমতি ও নবগঙ্গা অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ নদী। ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। অনুমোদন মিললে স্থায়ীভাবে শুরু করা যাবে কাজ। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আপৎকালীন ব্যবস্থার আওতায় ভাঙন প্রতিরোধে পাউবো প্রস্তুত। মানুষের বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।’




