ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, পৌনে ২ ঘণ্টা পর দেওয়া হলো সঠিক প্রশ্ন

নীলফামারীর বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ— সংগৃহীত
নীলফামারীতে এইচএসসি পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। ওই ভুল প্রশ্নেই প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পরীক্ষা চলে। এরপর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষার সময় বেলা ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
আজ রবিবার সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ইতিহাস পরীক্ষায় ঘটেছে এ ঘটনা।
পরীক্ষার্থীরা জানান, শুরুতেই প্রশ্নপত্রে কিছু অসঙ্গতি তাদের নজরে এলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকদের বিষয়টি জানানো হলে তা গুরুত্ব দেননি। দীর্ঘ সময় পর কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে যে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থী শুভ মিয়া বললেন, ‘বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজে আজ আমাদের ইতিহাস পরীক্ষা ছিল। আমরা যখন চারটি সৃজনশীল লেখা শেষ করি, তখন একজন শিক্ষক এসে আমাদের নতুন প্রশ্নপত্র দিচ্ছে। এতক্ষণে প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় শেষ হয়ে গেছে। পরে নতুন করে আমাদের ৭টা সৃজনশীল লিখতে হয়। একজন শিক্ষার্থী কিভাবে এই ১১টি সৃজনশীল লেখা সম্ভব?
আরেক পরীক্ষার্থী মাহফুজ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা যখন চারটা সৃজনশীল লেখা শেষ করছি, তখন আমাদের আবার নতুন আরেকটি প্রশ্নপত্র দিয়ে বলে যে সাতটি সৃজনশীল লিখতে হবে। এটা কোনোভাবে সম্ভব? আপনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে ১১টি সৃজনশীল লেখা কি সম্ভব?
এ বিষয়ে বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলমগীরের ভাষ্য, ‘আমরা সঠিক প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছি।’ একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগের কথা জানানো হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন এবং পরে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বললেন, ‘বিষয়টি তাদের জানা আছে। এ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।’





