ঘুরে দাঁড়াচ্ছে লস্করপুর ভ্যালির ২৪ চা-বাগান
- চার মাসেই উৎপাদন বেড়েছে ৩১ শতাংশ

সংগৃহীত ছবি
টানা তিন বছর উৎপাদন কমার পর চলতি মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ভ্যালির চা-শিল্প। মৌসুমের প্রথম চার মাসেই ভ্যালির ২৪টি চা-বাগানে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদিত হয়েছে ৬ লাখ ৬৩ হাজার কেজি চা। তবে উৎপাদন বাড়লেও নিলামে চায়ের দাম না বাড়ায় লোকসানের শঙ্কা কাটেনি বলে জানিয়েছেন বাগান-সংশ্লিষ্টরা।
লস্করপুর ভ্যালি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ২৪টি বাগানে চা উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ২৬ লাখ ৯১ হাজার কেজি। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১ কোটি ২০ লাখ ১৯ হাজার কেজিতে। আর ২০২৫ সালে উৎপাদন আরও নেমে আসে ১ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার কেজিতে। অর্থাৎ দুই বছরে উৎপাদন কমে প্রায় ২৪ লাখ কেজি। তবে চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, লস্করপুর ভ্যালির অধীন ২৪টি চা-বাগানে সর্বশেষ ২০১৮ সালে রেকর্ড ১ কোটি ৩০ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল। এরপর উৎপাদন ওঠানামা করলেও ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা নিম্নমুখী ছিল।
চলতি মৌসুমে প্রায় সব বাগানেই বেড়েছে উৎপাদন। এর মধ্যে নোয়াপাড়া চা-বাগানে উৎপাদন বেড়েছে ১২৭ দশমিক ৮৩, লালচাঁদ চা-বাগানে ৯৫ দশমিক ৭১, মধুপুরে ৮২ দশমিক ২৫, তেলিয়াপাড়ায় ৬০, বৃন্দাবনে ৫০, দেউন্দি চা-বাগানে ৪১ দশমিক ৫৯ এবং জগদীশপুর চা-বাগানে ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় কোনো বাগানেই উৎপাদন কমেনি।
দেউন্দি চা-বাগানের মহাব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিনের বক্তব্য, ‘অর্থনৈতিক সংকট কিছুটা কাটিয়ে ওঠায় এবং শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় থাকায় উৎপাদন বেড়েছে। তবে চা-শিল্পকে শিল্প খাত নয়, কৃষি খাত হিসেবে বিবেচনা করে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং শিল্পটি আরও টেকসই হবে।’
লস্করপুর ভ্যালির সভাপতি ও চণ্ডীছড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিমুর রহমান সেলিম জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়া, শ্রমিকদের সহযোগিতা এবং রোগবালাই কম থাকায় এবার উৎপাদন বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর ভ্যালিতে ১ কোটি ১০ লাখ কেজির বেশি চা উৎপাদনের আশা করছেন তারা।




