দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে ধরা ছাত্রদল নেতা, ‘জরিমানা ৫ লাখ’

প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন এক ছাত্রদল নেতা। কনের পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে বর ও বরযাত্রীদের আটকে রাখে। পরে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা আলোচনা ও সমঝোতার পর ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান তিনি। ঘটনার পরদিন প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ সাদান (২৮) ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তিনি নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে। তার বাবা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ২০২২ সালে নিজ গ্রামের তরুণী আইমনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন সাব্বির আহমেদ। দীর্ঘদিন তারা আড়ালে সংসার করলেও বিষয়টি পরিবারের অজানা। সম্প্রতি প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে পার্শ্ববর্তী কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়।
গতকাল শুক্রবার বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান সাদান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তার ফোন করে কনের বাবা শাহজাহান মিয়াকে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে কনেপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বর ও বরযাত্রীদের আটকে রাখা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বৈঠক ও আলোচনার পর ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে সাব্বির আহমেদ সাদান ও তার সঙ্গে যাওয়া লোকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইমনার পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কনের বাবা ও পাইকুরা ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি শাহজাহান মিয়া বলেছেন, ‘ছেলে আগে বিয়ে করেছে, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। সব জেনেশুনে একজন বিবাহিত ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে পারি না।’ তবে জরিমানা আদায়ের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাব্বির আহমেদ সাদানের বাবা ও মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদ বললেন, ‘আমার ছেলে আগে একটি বিয়ে করেছে, সেটি আমার জানা ছিল না। আগে জানলে তো আর কেন্দুয়া গিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হতো না।’
মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসীম কুসার দাসের ভাষ্য, ‘৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিয়ে সংক্রান্ত ঘটনায় এক নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



