চকরিয়া
টানা বৃষ্টিতে ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি, দুর্ভোগ

গ্রামের অনেক বাড়িঘর ও দোকানপাটেও ঢুকেছে পানি, ছবি: আগামীর সময়
টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের চকরিয়ার ৬টির বেশি গ্রামে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে অন্তত ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ভারী বৃষ্টিতে ডুবে গেছে সড়ক। এসব গ্রামের অনেক বাড়িঘর ও দোকানপাটেও ঢুকেছে পানি।
এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিন বরইতলী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা গ্রামের গোবিন্দপুর, উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া ও বিবিরখিল হিন্দুপাড়া গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দুটি ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়া গ্রামে চলাচলের একমাত্র সড়কে হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে আছে। এসব গ্রামে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না নিলে এ বছর বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
গোবিন্দপুর উত্তরপাড়া হামিদুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করেন, ‘আকাশ মেঘ জমলেই আমাদের চিন্তা বেড়ে যায়। গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টি হলেও সড়ক ও উঠোনে পানি জমে। গত বছর দুবার বাড়িতেও পানি উঠেছে। মূলত পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এ সমস্যা।’
দক্ষিণপাড়ার হাফ্সা জান্নাত প্রশ্ন তোলেন, ‘ভোট এলেই নেতারা আমাদের উন্নয়নে ভাসিয়ে দেন। কিন্তু ভোটের পর বন্যা আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেলেও তাদের খোঁজ পাওয়া যায় না।’
জলাবদ্ধতার পানি মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী কোহিনূর, জবা ও জুনাইদ। তারা তুলে ধরল, ‘একটু বৃষ্টি হলেই এই সড়কে জমে থাকে পানি। এতে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে।’
গোবিন্দপুরের বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম রুবেল জানালেন, ‘গত মঙ্গলবার টানা বৃষ্টি হয়েছিল। এতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দুটি ওয়ার্ডের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আমরা এ সমস্যা থেকে উত্তরণ চাই।’
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেছেন, ‘হিন্দুপাড়ায় জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানালেন, ‘দ্রুত পানি নিষ্কাশন করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’




