টানা বৃষ্টিতে কুতুবদিয়ায় সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ছবি: আগামীর সময়
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়েছে।
আজ সোমবার সকালে উপজেলার লেমশীখালী ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের সংযোগস্থলে কেয়াকাটা খালের ওপর নির্মিত ৪৩ মিটার দীর্ঘ সেতুটি হঠাৎ ধসে পড়ে।
এতে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা জানালেন, গতকাল রবিবার সকাল থেকে লঘুচাপের প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলে টানা ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। অতিবৃষ্টির কারণে খালের পানির প্রবল স্রোত ও দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে আজ সোমবার সকালে সেতুটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে লেমশীখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাজিরপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরই প্রভাবে কুতুবদিয়াসহ উপকূলীয় এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আক্তার হোছাইন বলেছেন, সংস্কারের অভাবে সেতুটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজকের ভারী বর্ষণে শেষ পর্যন্ত সেতুটি ধসে পড়েছে। এখন এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবুছদ্দিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০০২ সালের দিকে লেমশীখালী ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের সংযোগস্থলে কেয়াকাটা খালের ওপর ৪৩ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই বছর আগে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয় এবং নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়।
তার ভাষ্য, বরাদ্দ না পাওয়ায় নতুন সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। টানা ভারী বর্ষণের কারণে সোমবার সকালে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বললেন, সেতুটি আগে থেকেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সোমবার সকালের অতিবৃষ্টিতে সেটি ভেঙে পড়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে আগেই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রথম বড় আঘাতেই সেতুটি ধসে পড়েছে। এখন বিকল্প সড়ক না থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।




