ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, মাধবপুরে যুবদল নেতা বহিষ্কার

শেখ শামীম আহমেদ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শামীম আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। মাদক সেবন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে বহিষ্কারের আদেশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে শেখ শামীম আহমেদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়। যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন (এমপি)-এর অনুমোদনক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
সূত্র জানায়, ৭ জুন রাতে মাধবপুর থানার এসআই মো. ফারুক মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ৩০টি ইয়াবাসহ রাসেল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরদিন ৮ জুন ভোরে শেখ শামীম আহমেদ থানায় গিয়ে ওই আসামিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী লকআপ খুলতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে এক পুলিশ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হুমকিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এরই মধ্যে দুই দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ শামীম আহমেদের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি মাধবপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. এনায়েত উল্লাহর নজরে এলে তিনি ১০ জুন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে যুবদলের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক পত্রে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শেখ শামীম আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের আদেশটি কেন্দ্রীয় যুবদলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহিষ্কারাদেশের চিঠি শেয়ার করছেন।
মাধবপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. এনায়েত উল্লাহ বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার্থে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
তবে বহিষ্কারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শেখ শামীম আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেছেন, ‘একটি জমিতে মাটি ভরাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমার বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করিয়েছে। আমি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার।’
মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল বলেছেন, বিএনপি বা এর অঙ্গ-সংগঠনে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান নেই। প্রশাসনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অত্যন্ত গুরুতর। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।




