মহেশখালী
ট্রলি উল্টে প্রাণ গেল যুবকের

ছবি: আগামীর সময়
কয়েকদিন আগেই কাজ করতে গিয়ে ভেঙেছিল হাত। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে মাত্র কয়েকদিন হলো আবার কাজে ফিরেছিলেন ২৫ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেন। কাজের ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে পিকনিকে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তার। সেই আনন্দঘন আয়োজনের জন্য সহকর্মীরা তার নামে জার্সিও অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু কে জানত, সেই জার্সি আর কখনো গায়ে জড়ানো হবে না আনোয়ারের! পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠার আগেই ট্রলি গাড়ি চাপা পড়ে নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ।
আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ফকিরাঘোনা মিয়াজির পাড়া বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন বড় মহেশখালীর মুন্সীর ডেইল এলাকার মৃত তজু মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় ‘বুশরা ডেকোরেশন’ দোকানে দেড় বছর ধরে কাজ করছিলেন। মাত্র নয় মাস আগে বিয়ে করেছিলেন তিনি। এখনো তাদের সংসারে আসেনি কোনো সন্তান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালে বাড়ি থেকে কাজে বের হন আনোয়ার। বুশরা ডেকোরেশন দোকান থেকে মালামাল বোঝাই করে একটি ট্রলি গাড়ি নিয়ে ফকিরাঘোনায় চলমান কাজের স্থানে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে মিয়াজির পাড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ট্রলি গাড়িটির একটি চাকা উল্টে যায়। এতে আনোয়ার গাড়িটির নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক আনোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুশরা ডেকোরেশনের মালিক জাহাঙ্গীর জানালেন, রবিবার সকালে তার দোকানের ছয়জন কর্মীকে বিভিন্ন চলমান কাজের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে আনোয়ারকে মালামাল নিয়ে ফকিরাঘোনায় পাঠানো হয়। কাজ করতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হবে তা কল্পনাও করেননি তিনি।
জাহাঙ্গীর বলেছেন, ‘হঠাৎ করে এমন দুঃসংবাদ আসবে, কল্পনাও করিনি। ছেলেটা খুবই ভালো ছিল। আমার দোকানে দেড় বছর ধরে কাজ করছিল।’
আনোয়ারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। সহকর্মীদের কাছে আনোয়ার ছিলেন ভালো ব্যবহার ও আন্তরিকতার জন্য পরিচিত একজন মানুষ। কয়েকদিন আগেই কাজ করতে গিয়ে তার হাত ভেঙে গিয়েছিল। সেই আঘাত থেকে সুস্থ হয়ে অল্প কয়েকদিন আগে আবার কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কাজে ফেরার পর সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সময় কাটছিল তার। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সোলতান বলেছেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।



