নওগাঁয় বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বরযাত্রীদের হামলার মুখে ইউএনও

ছবি: আগামীর সময়
নওগাঁর আত্রাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক শিশুর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বরযাত্রীদের হামলার চেষ্টার মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় ইউএনওর সরকারি গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বরপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।
আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সমাসপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে আল আমিন নামের এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন।
পরে বর আল আমিনকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বরযাত্রীরা ইউএনওর গাড়ির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ। এ সময় প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
এদিকে বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠানে সমাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মুনিরুল জামান মুনিরসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের উপস্থিতি ও বিয়েতে অংশ নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গ্রামবাসীর একাংশের অভিযোগ, মুনিরুল জামান মুনিরের ইন্ধনেই বরপক্ষ ইউএনওর গাড়িতে হামলা ও আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মুনিরুল জামান মুনির বলেছেন, ‘বিয়েটা আরও দুই বছর আগে হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল। বরপক্ষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় সেখানে গিয়েছিলাম। পরে ইউএনও এসে বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিলে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। আমি উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি। হামলায় ইন্ধনের অভিযোগ সঠিক নয়।’
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন। বরকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বরপক্ষের লোকজন তাদের গাড়ি আটকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর হামলা এবং আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইউএনও আরও জানান, বাল্যবিয়ে আয়োজন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মুন্নাফ, রাব্বী, ইউনূস, সজলসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।








