বরিশালে কর্মবিরতিতে পরিচ্ছন্নকর্মীরা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

ফাইল ছবি
ঈদের আগে বেতন ও বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী। মঙ্গলবার থেকে সম্পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় পরিচ্ছন্নকর্মীরা, যা বুধবারেও সমাধান হয়নি।
বুধবার (১১ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির কারণে নগরজুড়ে আবর্জনা জমে সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।
পরিচ্ছন্নকর্মীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেতন ছাড়া হয়েছে, তবে বোনাস দেয়নি। আমরা বোনাস চাই, সাথে অগ্রীম ৩০ দিনের বেতনও চাচ্ছি। আর তা না দিলে আন্দোলন চলমান থাকবে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী আব্দুল্লাহ বলছিলেন, ৩০ দিন কাজ করে তারা বেতন পান ২২ দিনের। গত বছরও উৎসব ও ইফতার ভাতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বোনাস দিচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদ বোনাস পেলেও বঞ্চিত হচ্ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। অথচ মশকনিধন, ড্রেন পরিষ্কার, রাস্তা পরিষ্কার আমরাই করি। এরপরও এবার বোনাস না দিলে ঈদে কোনো কর্মী কাজ করবেন না।
পরিচ্ছন্নকর্মী সুমন খান বলছিলেন, নিজেদের গায়ে দুর্গন্ধ লাগিয়ে আমরা শহর পরিষ্কার রাখি। অথচ উৎসবের সময় আমাদের সামর্থ্য থাকে না পরিবার নিয়ে আনন্দ করার।
‘বর্তমান বাজারে এই বেতনে সংসার চালানোই কঠিন, তার ওপর বোনাস না পেলে সন্তানদের নতুন পোশাক বা ঈদের বাজার করা অসম্ভব’, উল্লেখ করেন রোকেয়া পারভীন।
শ্রমিক নেতা মোঃ সোহাগ জানান, গত ৮ মার্চ থেকে তারা আন্দোলন করছেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্তের আশ্বাস দিলেও কোনো সমাধানে আসেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলছিলেন, আগে এই দৈনিক মজুরীভিত্তিক পরিচ্ছন্নকর্মীদের বেতন ছিলো ১০ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি তারা উৎসব ভাতাও পেতেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারীদের মজুরি বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মজুরি বাড়ায় দৈনিক মজুরী ভিত্তিক শ্রমিকরা কোনো উৎসব ভাতা পাবেন না। আমরা আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় বুঝিয়েছি, তবে তারা তারপরও আন্দোলন থেকে সরছে না। মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করবো।
‘দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট পরিপত্র রয়েছে। তাই আন্দোলন করলেও বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই’, জানাচ্ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল বারী।
এদিকে দুই দিন ধরে সড়কের পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ পরে থাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। বরিশাল নগরীর মল্লিক রোড, আমানতগঞ্জ, বটতলা সহ অর্ধশত পয়েন্টে ময়লার স্তূপ তৈরী হয়েছে। নাক মুখ না ঢেকে হাটতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। তারা অতি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধাণের দাবী তুলেছেন।

