মায়ের জানাজায় প্যারোলে মুক্তি, ৪ ঘণ্টা পর ফের কারাগারে রাসেল

ছবি: আগামীর সময়
জামিন পাওয়ার পরও কারামুক্তি না পেয়ে মায়ের জানাজা ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনায়েন রাসেল।
আজ বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে থাকা মামলায় জামিন হলেও অন্য মামলায় পুনরায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর পর আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। শেষে মানবিক বিবেচনায় মায়ের দাফন ও জানাজায় অংশ নিতে তাকে ৪ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) লিটন ঢালী।
গোলাম হাসনাইন রাসেল ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক পৌর মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
রাসেলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম পলাশ জানান, মুমূর্ষু মা নুরজাহান রেখার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল বুধবার পাবনা জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান রাসেলের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালেও সেদিন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা। মায়ের মৃত্যুর পর কারামুক্তির আশা জাগলেও সকালে রাসেলকে আদালতে হাজির করে সম্প্রতি চাটমোহর থানায় দায়ের হওয়া একটি নতুন বিস্ফোরক মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখায় পুলিশ। এক মামলার জামিন কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় আবার কারাগারে ফেরাতে গেলে আদালতের বারান্দায় বাকরুদ্ধ হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেল। মায়ের শেষ মুখ দেখা ও জানাজায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তড়িঘড়ি প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়।
শ্যোন অ্যারেস্টের ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাসেলের আইনজীবী রেজাউল করিম পলাশ। তিনি বলেন, রাসেল সাহেব উপজেলা চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি। তিনি ২২ দিন কারাগারে ছিলেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে মামলার কথা বলেনি পুলিশ। লাইফ সাপোর্টে থাকা মায়ের পাশে থাকার মানবিক আবেদন বিবেচনায় আদালত তাকে জামিন দেওয়ার পর তাকে মুক্তি না দিয়ে মিথ্যা হয়রানি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অমানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো।
পাবনা জেলা কারাগারের জেল সুপার ওমর ফারুক বলেন, বুধবার রাসেলের জামিনের কাগজপত্র আমাদের কাছে পৌঁছেছিল। কিন্তু আগেই তার বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলা রয়েছে সংক্রান্ত নথি আসার কারণে তাকে সেদিন মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে তার ৪ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তির সরকারি আদেশ আজ পেয়েছি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালী জানান,
আবেদনকারীর মানবিক দিক এবং পরিবারের আকুল আবেদন বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক স্যার তাকে ৪ ঘণ্টার জন্য শর্তসাপেক্ষে প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেছেন। দাফন ও জানাজা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে আবার পুলিশ হেফাজতে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।







