মাদকে সয়লাব নড়াইলের শুক্তগ্রাম

ছবি: আগামীর সময়
নড়াইলের কালিয়ার উত্তর শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী।
মাদকবিরোধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইয়ার আলী মোল্যা, ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রহমান খান, আব্দুল্লাহ সরদার, এনায়েত মোল্যা, মন্টু শেখ, তারা মিয়া সরদার, ফাহাদ সরদারসহ অনেকে।
বক্তারা বললেন, নড়াইলের শুক্তগ্রামে মাদকের থাবা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই গ্রামের অনেকেই মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে গ্রামটি। এদের আবার অনেকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। শুক্তগ্রাম হয়ে নড়াইলের লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক প্রবেশ করছে। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এ জন্য পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলীর ভাষ্য, মাদক দমনের ব্যাপারে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে মাদক কারবারিদের দমন করতে হলে গ্রামবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারিদের ব্যাপারে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিতে হবে।
তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। বললেন, ‘আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য মাদক কারবারে জড়িত নেই। তারপরও পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে যদি আপনাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে আমাকে বা পুলিশ সুপার স্যারকে অবগত করলে অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায়-অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে তাদের চাকরি হারাতে হচ্ছে। অনেকের বাড়ি চলে যেতে হয়েছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, এলাকায় অন্যায়-অপকর্ম বন্ধে অভিভাবকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রতিটি সন্তানকে ভালোভাবে দেখভাল করতে হবে। সন্ধ্যার পর সন্তান পড়ার টেবিলে আছে কি না খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করছে কি না খোঁজখবর রাখতে হবে।
এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কালিয়া-লোহাগড়া সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মাদক কারবারিদের হামলায় আহত শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুকের আসামিদের দ্রুত বিচার দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
আয়োজকরা জানালেন, গত ৯ জুন সকাল ৬টার দিকে শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুক বাড়ির পাশের মাঠে গরু বাঁধতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গ্রামের আলমগীর সরদার (৫০), মিজান সরদার (৪৫) বিল্লাল সরদার (৪০), মুন্না সরদার (২৫) জিন্নাহ সরদার (২০), সাগর সরদার (২২), জামাল সরদারসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে (ফারুক) রক্তাক্ত করে। এ হামলায় ফারুকের বাম হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।
মাদক বেচাকেনায় বাধা দেওয়ায় গোলাম ফারুককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারসহ গ্রামবাসী।
ফারুক বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম ফারুক নিজেই বাদী হয়ে গত ১৪ জুন মামলা করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী বললেন, আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। আশা করি দ্রুত তারা গ্রেপ্তার হবে।




