ঈদের ছুটিতেও কুয়াকাটায় নেই প্রত্যাশিত পর্যটক

ছবি: আগামীর সময়
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায় এবার ঈদুল আজহার ছুটিতেও দেখা মিলছে না প্রত্যাশিত পর্যটকের। ফলে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন ও পর্যটননির্ভর বিভিন্ন পেশার মানুষ হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
ঈদের তৃতীয় দিন আজ শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, সৈকত এলাকা, আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফটোগ্রাফি ব্যবসা ও পর্যটকসেবাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তেমন ভিড় নেই। প্রথম শ্রেণির কিছু হোটেলে সীমিত বুকিং থাকলেও অধিকাংশ হোটেলের অনেক কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে। সৈকতে কিছু পর্যটকের উপস্থিতি দেখা গেলেও তাদের বেশিরভাগই দিনভর ঘুরে সন্ধ্যার পর ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা জানালেন, অতীতের ঈদগুলোতে কয়েক দিন আগেই অধিকাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে যেত। কিন্তু এবার এখনো অনেক কক্ষ খালি রয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত গরম, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ ছুটিতে মানুষের গ্রামমুখী হওয়ার প্রবণতার কারণে কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে।
হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যবসায়ী নেতা রাসেল খান জানালেন, ঈদ উপলক্ষে প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। তবে ছোট হোটেলগুলোর অবস্থা ভালো নয়। ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ করলেও আশানুরূপ পর্যটক না আসায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন।
হোটেল প্রেসিডেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার মোর্শেদ খান বলেছেন, ‘শতভাগ প্রস্তুতি থাকলেও বর্তমানে তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। অন্য অনেক হোটেলে এ হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।’
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র দোকানিরাও একই ধরনের হতাশার কথা জানিয়েছেন। কুয়াকাটা রাখাইন মহিলা মার্কেট সড়কের খাবার হোটেল ’রুচিতা’র মালিক মিরাজুল ইসলাম সোহাগ বললেন, পর্যটক কম থাকায় বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সৈকতসংলগ্ন এলাকায় ডাব বিক্রেতা স্বপন জানালেন, বিশেষ দিনগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতির ওপরই তাদের আয় নির্ভর করে। কিন্তু এবার পর্যটক কম থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেছেন, ‘দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকের চাপ বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তারপরও আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থা অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ জানালেন, দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউজ পর্যটক বরণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু ঈদের তৃতীয় দিনেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
অন্যদিকে পর্যটক কম থাকায় নিরিবিলি পরিবেশে সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, লেবুরবন, ঝাউবন ও সমুদ্রের গর্জন উপভোগ করে সময় কাটাচ্ছেন তারা।
ঢাকার গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক কাউসার জানালেন, প্রথমবার কুয়াকাটায় এসে তার ভালো লেগেছে। পর্যটকের ভিড় কম থাকায় স্বস্তিতে ঘুরতে পারছেন এবং কম খরচে হোটেলও পেয়েছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পৌর প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে এবং কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে পর্যটন এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।






