চলে গেলেন ক্ষুধার্তদের বন্ধু উমর আলী

উমর আলী। ফাইল ছবি
ভিক্ষুক, দিনমজুর বা পথচারী, প্রতি শুক্রবার উমর আলীর হোটেলে বিনামূল্যে পেতেন গরুর মাংস-ভাত। সঙ্গে মিলত ১০০ টাকা। গত ২৫ বছর ধরে এভাবে অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের বাসিন্দা উমর আলী। বৃহস্পতিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি।
উপজেলার জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে অবস্থিত ‘হোটেল উমর আলীতে’ ছিল এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। জগদীশপুর ইউনিয়নের বেজুড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। আজ শুক্রবার দুপুর ২টায় নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
শুক্রবার কেন এমন আয়োজন করেন—এ প্রশ্নের জবাবে উমর আলী প্রায়ই বলতেন, ‘আমি একসময় খুবই গরিব ছিলাম। রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম। খাবারের জন্য কত কষ্ট করেছি, সেই কথা মনে হলে চোখে জল এসে যায়। যখন স্বাবলম্বী হয়েছি, তখন থেকেই প্রতিজ্ঞা করি অন্তত সপ্তাহে একদিন অভাবী মানুষকে পেট ভরে খাওয়াবো।’ সেই প্রতিজ্ঞা থেকেই ২০০১ সাল থেকে প্রতি শুক্রবার তিনি এই আয়োজন করে আসছিলেন।
জগদীশপুর গ্রামের অলক কর্মকার বলছিলেন, ‘এমন দয়াবান মানুষ খুব একটা দেখা যায় না। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
মাধবপুর পৌরসভার কাউন্সিলর বাবুল হোসেনের ভাষ্য, ‘উমর ভাই ছিলেন একজন বড় মনের মানুষ। মানুষের জন্য তিনি যা করেছেন, তা অনেকের জন্যই অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’
জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, ‘আমরা একজন মানবিক মানুষকে হারালাম। তিনি নীরবে মানুষের সেবা করেছেন। তার মতো মানুষ সমাজে বিরল।’





