শ্রমিক সংকটে পাট কাটতে হিমশিম চাষিরা

কাটা পাট জাগ দিচ্ছেন কেন্দুয়ার কৃষকরা। ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় শ্রমিক সংকটের কারণে পাট কাটা ও জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। সময়মতো পাট কাটতে না পারলে ফলন ও মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষিনির্ভর এ উপজেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল পাট। তবে ধান কাটার মৌসুম চলায় স্থানীয়ভাবে শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক শ্রমিক আবার কাজের জন্য অন্য জেলায় চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে পাট কাটার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে জাগ দেওয়ার কাজও।
সরেজমিনে উপজেলার ভাটি অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, চাষিরা নিজেরাই পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে শ্রমিকের অভাবে অনেক ক্ষেতেই পাট কাটার কাজ সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না।
চিরাং ইউনিয়নের পাটচাষি রেজাউল করিম বলেছেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর নদী-নালা ও খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দিতে সুবিধা হচ্ছে। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে পাট কাটা ও জাগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় নিজেই কাজ করছেন, তবে একার পক্ষে সব কাজ শেষ করা সম্ভব নয়।’
মোজাফফরপুর ইউনিয়নের কৃষক রাসেল মিল্কি জানিয়েছেন, দেশি জাতের পাশাপাশি উন্নত জাতের পাটেরও ভালো ফলন হয়েছে। এখন সময়মতো পাট কেটে জাগ দিয়ে শুকাতে হবে। বাজারদর ভালো থাকলে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি প্রায় এক হাজার টাকায় পৌঁছায় চাষিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
আরেক কৃষক আজহারুল মিয়ার ভাষ্য, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে ১২ থেকে ১৫ মণ পাট পাওয়া যায়। বর্তমানে ভালো মানের পাটের দাম প্রতি মণ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে শেষ পর্যন্ত লাভ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৫৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। প্রণোদনা হিসেবে ৮০ জন কৃষককে ২ কেজি করে পাটবীজ এবং ১০ কেজি করে এমওপি ও ডিএপি সার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আরও ৮০ জন কৃষককে ২ কেজি করে পাটবীজ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ উজ্জ্বল সাহা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি চাষিদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
তিনি আরও জানান, ভালো আঁশ ও ন্যায্য দাম পেতে পাট পরিপক্ব হওয়ার পর কাটা এবং সঠিকভাবে জাগ দেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন।





