ময়মনসিংহ
চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ, বাড়ছে লোডশেডিং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের ভালুকায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহে বেড়েছে লোডশেডিং। এতে শিল্পাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন এবং বাড়ছে খরচ। কারখানা সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ৩০ ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভালুকা পৌর সদরসহ গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। তীব্র গরমে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিএম টেক্সটাইলের এক কর্মকর্তা বললেন, ‘চার দিন ধরে লোডশেডিং আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় কারখানার উৎপাদন ধরে রাখতে খরচ বাড়ছে।’
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ভালুকা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, তাদের মোট গ্রাহক প্রায় ৩৮ হাজার। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ আবাসিক এবং বাকি ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক ও সেচ গ্রাহক। উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট।
বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদের ভাষ্য, ‘চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে।’
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানায়, তাদের মোট গ্রাহক প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে ৪ লাখ ৮৫ হাজার আবাসিক, প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক, ৫ হাজার ২০০ শিল্প এবং ৪ হাজারের বেশি সেচ গ্রাহক। সমিতির আওতায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ২৯০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে ২১০ থেকে ২১৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ভালুকা ও গফরগাঁওয়ে চাহিদা প্রায় ১৬০ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার আকমল হোসেন বললেন, ‘ভালুকায় চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।’





