পুলিশকে হতে হবে মানবিক ও নিরপেক্ষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: আগামীর সময়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পুলিশের ক্ষমতার প্রয়োগ হতে হবে আইনসম্মত, আচরণ হতে হবে মানবিক, আর তদন্তে থাকতে হবে নিরপেক্ষতা। পেশিশক্তি, পক্ষপাত ও দুর্ব্যবহারের পরিবর্তে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। নিরপরাধ মানুষের অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-২০২৬’ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২৭তম ব্যাচের ৮৪ জন শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ব্যাচের ১৬২ জন ক্যাডেট এসআই এ কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘পুলিশের পোশাক শুধু চাকরির পরিচয় নয়। এটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা এবং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকার। পুলিশের প্রতিটি সিদ্ধান্ত একজন নাগরিকের জীবন, একটি পরিবারের নিরাপত্তা ও সমাজের শান্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই দায়িত্ব পালনে সতর্কতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইনের অনুসরণ এবং আচরণে মানবিকতা নিশ্চিত করতে হবে।’
মন্ত্রী সালাহউদ্দিন জানান, পুলিশদের সব ধরনের ভয়ভীতি ও পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। পুলিশকে সত্যিকার অর্থেই জনগণের পুলিশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। নিজেদের জীবনে যে বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, পেশাগত জীবনে যেন তারা অন্য কারও প্রতি সেই আচরণ না করেন। তাদেরকে সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
‘বর্তমানে অপরাধের ধরন বদলেছে। প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদক-মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ পুলিশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক তদন্ত, অপরাধের ধরন সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন,’ যোগ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, ‘অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়াই পুলিশের একমাত্র কাজ নয়। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অপরাধের ঝুঁকি কমবে এবং মানুষ নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।’
পুলিশি সেবা আধুনিকায়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ফরেনসিক ও ডিজিটাল ফরেনসিক, ডিএনএ পরীক্ষা, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, বিট পুলিশিং, নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবা ডেস্ক এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মতো কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ, আধুনিক, যুগপযোগী, সেবাধর্মী ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, যানবাহন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মাইনুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।
২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট নির্বাচিত হন মো. ওমর ফারুক। একাডেমিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ হন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সাইফুল ইসলাম এবং শুটিংয়ে মো. আসাদুজ্জামান। ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট নির্বাচিত হন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। একাডেমিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ হন মো. বোরহানুল ইসলাম, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে দেওয়ান গোলাম রসুল এবং শুটিংয়ে মো. কামাল গনি।
ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষানবিশ সার্জেন্টরা নিজ নিজ ইউনিটে যোগ দেবেন। অন্যদিকে, ক্যাডেট এসআইদের শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হবে।




