ছয় বছর ধরে ভাঙা বৈরান সেতু, দুর্ভোগে ২৫ গ্রামের মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ভাতকুড়া গ্রামের বৈরান নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ছয় বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে।
এই অবস্থায় উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২৫ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে উপজেলা সদরের সঙ্গে এসব গ্রামের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবায় ভোগান্তি বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণ করে। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সংযোগ সড়ক ও গাইড বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। পরে সেতুর মাঝের পিলার সরে গিয়ে পুরো কাঠামো নদীতে ধসে পড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং সেতুর গোড়ালি থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই সেতুটি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বারবার অভিযোগ করেও তারা কোনো কার্যকর উদ্যোগ পাননি।
বর্তমানে ভাতকুড়া, মুশুদ্দি, চরপাড়া, বেলতলা, ভবানীপুর, সরিষাবাড়ী ও কাশবনসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ বাঁশের সাঁকো, নৌকা ও অস্থায়ী ব্যবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা হাতেম আলী বলছিলেন, সেতু চালু থাকলে মাত্র ১০ মিনিটে উপজেলা সদরে যাওয়া যেত, এখন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে।
শিক্ষক আব্দুল হাদী জানান, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক ও চাকরিজীবীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত একটি টেকসই ও মানসম্মত সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরজাহান আক্তার সাথী বলেছেন, বৈরান নদীর পশ্চিম পাড়ের মানুষের যাতায়াত সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। নতুন সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।




