গাইবান্ধা
হাটের দখল নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ

গাইবান্ধায় পান হাটের দখল নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ— ভিডিও থেকে নেওয়া
গাইবান্ধায় পানহাটির (পানের হাট) দখল নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ির পৌর শহরের ছোট শিমুলতলা এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
সংঘর্ষের তথ্য নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলম খান।
স্থানীয়রা জানান, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে পানহাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। আগেও এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের কথাও জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে ঘটনার কয়েকটি ভিডিও। তাতে দেখা গেছে, পানহাটির কাছে পলাশবাড়ি-ঘোরাঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল ছুড়ছেন এবং ধাওয়া-পাল্টা দিচ্ছেন। হাসুয়া ও বাঁশের লাঠি হাতে কয়েকজনকে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিতেও শোনা যায়। আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।
সংঘর্ষের সময় পানহাটির দুটি গাছ এবং কয়েকটি পানের দোকান ভাঙচুর করা হয় বলে জানান কয়েক প্রত্যক্ষদর্শী।
ওসি সারোয়ার আলম খান বললেন, ‘সকালে পানহাটিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি এখন শান্ত।’
এই পানহাটির দখল ঘিরে গত ২০ মে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। তখন ইটের আঘাতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার অফিস সম্পাদক সামিউল গুরুতর আহত হন। রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে দশদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর মারা যান তিনি।
সামিউলের মৃত্যুর জন্য জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির ওই সংঘর্ষকে দায়ী করলেও পরে কেউ কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি। তবে আগের সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত দুইপক্ষই পলাশবাড়ি থানায় মামলা করেছে।







