দানবাক্সে শুধু টাকা নয়, মিলল মানুষের মনের কথাও

ছবি: আগামীর সময়
দানবাক্স খুললেই সাধারণত চোখে পড়ে টাকা-পয়সা। কিন্তু সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খুলে মিলেছে মানুষের মনের কথাও। বিপুল অর্থের সঙ্গে পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি চিঠি—যেখানে ফুটে উঠেছে ভক্তদের ব্যক্তিগত কষ্ট, আকাঙ্ক্ষা ও প্রার্থনা।
এর মধ্যে হেনা নামের এক নারীর লেখা চিঠি আলাদা করে নজর কেড়েছে। স্বামীকে মাদক ও ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন তিনি।
আজ শনিবার সকালে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগ খোলার পর এসব চিঠি পাওয়া যায়। বিভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ও মনের কথা জানিয়ে ভক্তদের লেখা চিঠিগুলোর মধ্যে হেনার চিঠিটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
চিঠিতে নিজের স্বামীকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে আকুতি জানিয়েছেন হেনা। পাশাপাশি যারা তার স্বামীকে বিপথে নিয়েছেন, তাদের বিচার এবং পৃথিবী থেকে মাদকদ্রব্য নির্মূলের প্রার্থনা করেছেন তিনি।
হেনা তার চিঠিতে লেখেন, ‘ইয়া আল্লাহ, আমি তোমার ওলির মাজারে আমার মনের কষ্টগুলো ব্যক্ত করছি। যারা আমার স্বামীকে কুপথে নিছে আল্লাহ তুমি তাদের বিচার করিও। আমার মতো কষ্ট যেন কেউ না পায়। আল্লাহ তুমি মাদকদ্রব্য পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দাও। -হেনা।’
চিঠির কয়েকটি লাইনে ফুটে উঠেছে ব্যক্তিগত জীবনের কষ্ট, স্বামীকে নিয়ে উদ্বেগ এবং মাদকের বিরুদ্ধে একজন নারীর আকুতি। দানবাক্সে জমা পড়া এসব চিঠি যেন অর্থের পাশাপাশি মানুষের জীবনের নানা গল্পও সামনে নিয়ে এসেছে।
এদিকে, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনা শেষে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। ৩৪ দিন পর শনিবার (১৫ আগস্ট) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের তালা খুলে এ টাকা গণনা করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রৌপ্যও পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাজারের তিনটি ডেগ ও তিনটি বড় দানবাক্স খুলে গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী দিনভর এ কাজে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
গণনা শেষে সংশ্লিষ্টরা জানান, ৩৪ দিনে দানবাক্স ও ডেগে জমা পড়া নগদ টাকার পরিমাণ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এর সঙ্গে পাওয়া গেছে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রৌপ্য।
এর আগে গত ২২ জুন ও ১১ জুলাই প্রকাশ্যে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছিল। সর্বশেষ গণনার ৩৪ দিন পর শনিবার আবারও দানবাক্স খোলা হলো।
তবে দানবাক্স খোলার পর শুধু অর্থের পরিমাণই নয়, মানুষের লেখা চিঠিগুলোও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। বিপুল টাকার পাশাপাশি পাওয়া এসব চিঠিতে উঠে এসেছে মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ-কষ্ট ও প্রার্থনার কথা।







