শ্রীমঙ্গলে চায়ের জনপদে লেবুর বিস্তার
- পাঁচ বছরে আবাদ বেড়েছে ১০০ হেক্টরে

ছবি: আগামীর সময়
চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লেবু চাষও কৃষির গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি টিলা আর সমতল জুড়ে বাড়ছে লেবুর আবাদ। গত পাঁচ বছরে উপজেলায় ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ ফলটির আবাদ বেড়েছে ১০০ হেক্টর জমিতে। সব মিলিয়ে চাষের জমি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪০ হেক্টর, যা থেকে বছরে প্রায় ১১ হাজার ৯২০ টন লেবু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি টিলা ও সমতল জমিতে সিডলেস, চায়না, কাগজি ও জারা জাতের লেবু চাষ করা হয়। এসব জাতের মধ্যে কাগজি ও সিডলেস লেবুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই অঞ্চলে লেবু চাষের বিস্তার ঘটলেও বিদেশে রপ্তানির কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।
বিভিন্ন বাগান থেকে জিপগাড়ি ও ঠেলাগাড়িতে করে লেবু বাজারে আসছে। আড়তদাররা তা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন। বাজারে চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন চাষিরা। শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজার এলাকার লেবু বিক্রেতা জসিম মিয়ার ভাষ্য, মৌসুমে আকারভেদে প্রতি পিস লেবু পাইকারি আড়তে বিক্রি হয় ২-১০ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫-৩৫ টাকায়।
হোটেল-রেস্তোরাঁয় লেবুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শ্রীমঙ্গলের রিজিক রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. ময়নুল ইসলাম সানি জানালেন, লেবুর মান নিয়ে তারা মোটামুটি সন্তুষ্ট। তবে দাম বেশি থাকলে ক্রেতাদের সমস্যায় পড়তে হয়। চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে লেবু বিক্রির ব্যবস্থা করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমতে পারে। এতে চাষিরা ন্যায্য দাম পাবেন, পাশাপাশি ক্রেতারাও তুলনামূলক কম দামে লেবু কিনতে পারবেন।
লেবুর আড়তদার আব্দুল মালেকের ভাষায়, শ্রীমঙ্গলের পাইকারি বাজারে আসা লেবু দিয়ে স্থানীয় চাহিদা মেটানোই কঠিন। এর মধ্যে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখান থেকে লেবু কিনে নিয়ে যান।
আব্দুল মালেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার শ্রীমঙ্গলের পাইকারি আড়তগুলোয় বড় আকারের প্রতি পিস লেবু গড়ে ৩০, মাঝারি আকারের ২৫ এবং ছোট আকারের ১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এ অবস্থায় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারব্যবস্থার উন্নয়ন ও রপ্তানির সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের মতে, লেবু রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ফলের মান বজায় রাখা, সঠিকভাবে বাছাই ও প্যাকেজিং, সংরক্ষণ এবং পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশি বাজারের চাহিদা ও রপ্তানির শর্ত পূরণ করতে হবে।



